জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল সংকট নিয়ে দক্ষ সাংবাদিক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জলবায়ু রিপোর্টিং বিষয়ক এক অভিন্ন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এজাইল প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালায় কোর্সের খসড়া পর্যালোচনা, পাঠদান পদ্ধতি এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
Advertisement
গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকার পূর্বাচলে সিসিইউএলবি রিসোর্টে দুই দিনব্যাপী এই কো-ডিজাইন কর্মশালা শুরু হয়।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এ কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালা পরিচালনা করেন কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্ক (সিজেইএন) চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুড উইলিয়াম জেনিলো ও সাংবাদিক জেসমিন পাপড়ি।
প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীদের জলবায়ু সাংবাদিকতার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) অধ্যাপক ড. এম শাহজাহান মন্ডল জলবায়ু বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা, বাংলাদেশের ঝুঁকি এবং এ সংক্রান্ত প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
Advertisement
এরপর দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক মোস্তফা ইউসুফ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয়গুলো কীভাবে যুক্ত হয়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। দিনের শেষ অধিবেশনে গ্রেট জিম্বাবুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিফট গুইন্ডিংওয়ের সঞ্চালনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং দিনের শেখা বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল জলবায়ু রিপোর্টিংয়ের একটি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স। ২০২৬ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এজাইলের আগের সহ-নকশা সভায় প্রণীত কোর্সের খসড়া রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কীভাবে কোর্সটি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত দেন।
পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে কোর্সের বিষয়বস্তু, পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে কাজ করা হয়। দলীয় উপস্থাপনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে কোর্সের খসড়া আরও পরিমার্জনের সুপারিশ করা হয়।
আরও পড়ুন প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান শিগগির, প্রশিক্ষণ হবে দুইমাসকর্মশালায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত নয়, এটি অর্থনীতি, সমাজ, জনস্বাস্থ্য ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ফলে ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা বৈজ্ঞানিক তথ্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাকে সমন্বিত করে নির্ভুল ও প্রভাবশালী প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন।
Advertisement
তাদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলবায়ু রিপোর্টিং বিষয়ক পাঠ্যক্রম চালুর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের আরও দক্ষ করে তোলা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশে জলবায়ু সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এজাইল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পরিচালিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। এর লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করা। এই উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে রয়েছে ইন্টারনিউজ ইউরোপ, ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট, সিএফআই ডেভেলপমঁ মিডিয়া, থমসন মিডিয়া ও আর্টিকেল ১৯। এজাইলের আওতায় ‘দ্য ফিউচার অব জার্নালিজম’ কর্মধারার নেতৃত্ব দিচ্ছে ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট।
কেএসআর/