আন্তর্জাতিক

ধারণার চেয়েও কমে যেতে পারে সোনার দাম, বলছে পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ধারণার চেয়েও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান তাদের নতুন পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, তবে সোনার দাম ধারণার চেয়েও কমে পারে।

Advertisement

সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার চেয়ে অন্য লাভজনক খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে পছন্দ করেন। এর ফলে সোনা বা এই জাতীয় অনুৎপাদনশীল ধাতুর বাজারে বড় চাপ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের মুখে সোনার দাম আগের চেয়ে পূর্বাভাস কমাল জেপি মরগান

প্রধান খাতগুলো থেকে সোনার চাহিদা আশানুরূপ না হওয়ায় দাম বাড়ার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়েছে জেপি মরগান। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৪ হাজার ৫০০ ডলার হতে পারে।

অথচ গত ৯ জুনের এক পূর্বাভাসে জেপি মরগান জানিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্সপ্রতি ছয় হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে ব্যাংকটি।

Advertisement

আরও পড়ুন সোনার দামে রেকর্ড পতন, এই সুযোগ থাকবে কতদিন?

এদিকে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ধাতুটির দাম সামগ্রিকভাবে দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে আশার আলো

সাময়িক ওঠানামা এবং দাম কমার ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার নিয়ে আশাবাদী জেপি মরগান।

ব্যাংকটি বলছে, ২০২৭ সাল নাগাদ সোনার দাম আবার বাড়তে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা এবং বাজারে বাস্তব চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন দামে ১৩ বছরের সবচেয়ে বড় পতন, সোনা কেনার এখনই কি সেরা সময়? রুপা ও প্ল্যাটিনামের বাজার পরিস্থিতি

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেরও পূর্বাভাস দিয়েছে জেপি মরগান। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম ৬০ থেকে ৬৫ ডলার হতে পারে।

Advertisement

এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্ল্যাটিনামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা ১ হাজার ৯৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ২০২৬ সাল নাগাদ আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্সকেএএ/