বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচটি পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় ম্যাচটি এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি ফিফা।
Advertisement
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে বিষয়টি জানিয়েছেন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি। পরিচয় প্রকাশের অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করেননি।
এর আগে ফিফা স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় নির্ধারিত ম্যাচটি আরও আগে শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এপিকে নিশ্চিত করেন মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাও। তিনিও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তথ্যটি জানান।
ম্যাচের সময় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনার অন্যতম কারণ ছিল ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা। শুক্রবার সম্ভাব্য সময় পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করেন মেক্সিকোর প্রধান কোচ হাভিয়ের আগিরে। তিনি রেডিও ফর্মুলাকে বলেন, ‘এটা যেন পেটে লাথি মারার মতো। এখন আমাদের পুরো পরিকল্পনাই বদলাতে হবে। সব পরিশ্রম যে একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে, তা নয়। তবে প্রায় সে রকমই। কারণ ছয় ঘণ্টার পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। বিষয়টি আমার মোটেও ভালো লাগছে না।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই ফিফা যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই মেনে নেব। কিন্তু আমি বা আমার খেলোয়াড়রা-কেউই এতে খুশি নই।’
সময় পরিবর্তন হলে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়তে পারতো। থ্রি লায়ন্সদের শুক্রবার রাতেই মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর কথা এবং শনিবার রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে ইউএনএএম পুমাস-এর অনুশীলন মাঠে তাদের শেষ প্রস্তুতি সেশনের সূচি রয়েছে। ম্যাচ এগিয়ে এলে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও কম সময় পেতো ইংল্যান্ড।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৩০০ ফুট (২,২০০ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত আজতেকা স্টেডিয়াম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উঁচু স্থানে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে ক্রীড়াবিদদের কিছু সময় ধরে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। কম বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে ক্লান্তি এড়াতে সাধারণত অন্তত দুই সপ্তাহের অভিযোজন সময়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিকল্প হিসেবে ম্যাচের একেবারে কাছাকাছি সময়ে পৌঁছানোর ‘ফ্লাই-ইন, ফ্লাই-আউট’ কৌশলও ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও মেক্সিকো সিটির উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এত কম সময়ে আমরা এই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবো না। এটা মেক্সিকোর জন্য বিশাল একটি সুবিধা। কারণ এ ধরনের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে অনেক সময় লাগে।’
Advertisement
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটিতে এটিই হবে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ।
আরএএইচইউএল/আইএন