মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নামার আগে নানা বিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের। মেক্সিকোর উঁচু মাঠে মানিয়ে নেওয়াটাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ডের সবাই।
Advertisement
তবে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) হাতে আরেকটি সম্ভাব্য উপায় রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ, যা উচ্চতাজনিত সমস্যাও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মজার বিষয় হলো, ভায়াগ্রা প্রথমে যৌন সমস্যার ওষুধ হিসেবে নয়, বরং উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ফুসফুসের রক্তনালী প্রসারিত করে, ফলে উচ্চতায় শরীরে অক্সিজেন পরিবহন সহজ হতে পারে।
এই কারণে উচ্চতায় খেলার শুরুতে যে ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়, তা কিছুটা কমাতে ভায়াগ্রা কার্যকর হতে পারে। আর যেহেতু এটি নিষিদ্ধ ওষুধ নয়, তাই নিয়মগতভাবে ইংল্যান্ড চাইলে এটি বিবেচনা করতে পারে।
Advertisement
তবে ২০০৯ সালে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় এফএ স্পষ্ট জানিয়েছিল, দল ভায়াগ্রা ব্যবহার করবে না।
তখন এফএর একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড দলের মেডিকেল স্টাফ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বিস্তারিত গবেষণা চালাচ্ছে। তবে ভায়াগ্রা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের এটি দেওয়ারও কোনো পরিকল্পনা নেই।’
রসিকতার ছলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমর্থকেরা যেমন রাত জেগে ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে থাকবেন, তেমনি খেলোয়াড়দের যেন ‘অতিরিক্ত উত্তেজিত’ অবস্থায় মাঠে দেখা না যায়!
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যার মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা ব্যবহারে বাধা নেই, কারণ এটি ডোপিংবিরোধী নিয়ম লঙ্ঘন করে না। প্রেসক্রিপশনে ব্যবহৃত এই ওষুধটি ওয়াদার ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় নেই।
Advertisement
গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের রক্তচাপ কমিয়ে এটি উচ্চতাজনিত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আসন্ন সফরে সত্যিই ভায়াগ্রা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যৌন সক্ষমতার চিকিৎসায় বেশি পরিচিত এই ওষুধটি উচ্চতাজনিত অভিযোজনেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
ইংল্যান্ডের কোচ অবশ্য কঠিন পরিবেশে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। রাউন্ড অব ৩২-এ মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।
এত উচ্চতায় বল তুলনামূলকভাবে বেশি দূর যায় এবং দৌড়ঝাঁপ করাও অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা এই পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত। গত ৫৬ বছরে আজতেকায় তারা মাত্র দুইবার পরাজিত হয়েছে।
শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর কথা ইংল্যান্ড দলের। ফলে ম্যাচের আগে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের হাতে থাকবে মাত্র দুই দিন। বুধবার আটলান্টায় ডিআর কঙ্গোকে হারানোর পর কোচ টুখেল দলকে আবার আটলান্টার অনুশীলন ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেন, যাতে নিরপেক্ষ পরিবেশে কৌশলগত প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়।
মেক্সিকো সিটিতে দলের হোটেলের অবস্থানও গোপন রাখা হয়েছে, যাতে স্বাগতিক সমর্থকেরা খেলোয়াড়দের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারেন।
এমনকি হোটেলের চারপাশে অস্থায়ী সড়ক অবরোধেরও অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগের রাতে মেক্সিকান সমর্থকেরা উচ্চ শব্দ করে বিরক্ত করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, নকআউট পর্বে এখন প্রতিটি ম্যাচই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেক্সিকো সিটির উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইংল্যান্ড কী পদ্ধতি বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরআর/আইএন