আন্তর্জাতিক

ইমাম খামেনির জানাজার নামাজ আজ, অংশ নেবেন ৭০ দেশের প্রতিনিধি

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ রোববার (৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে। তেহরানে চলমান সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির তৃতীয় দিনে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।

Advertisement

ইরানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। একজন শীর্ষ ধর্মীয় আলেমের ইমামতিতে আদায় করা হবে। তবে, ইমামের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অনুষ্ঠানস্থলে খামেনির কফিনের পাশাপাশি ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে তার এক শিশু নাতনিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানেই ১ কোটির বেশি মানুষ এই শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন। তবে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২ কোটিতেও পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, শহিদ ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সন্তুষ্ট ইরান।

Advertisement

শনিবার (৩ জুলাই) আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, বিশেষ করে আমাদের আরব ভাইদের উপস্থিতিতে আমরা আনন্দিত। এই ঐতিহাসিক স্মরণানুষ্ঠান আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে ৩ জুলাই শুরু হওয়া এক সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। সেখানে লাখো শোকাহত মানুষ এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশেষ দূতরা অংশ নিচ্ছেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৬ বছর।

রোববার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ড থেকে তার মরদেহ রাজধানীতে সোমবারের শোকযাত্রার প্রস্তুতির জন্য সরিয়ে নেওয়া হবে। শনিবার জনসাধারণের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ কালো পোশাক পরে এবং প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা হাতে উপস্থিত হন। শোক প্রকাশের পাশাপাশি সেখানে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও শোনা যায়।

Advertisement

শুক্রবার শুরু হওয়া শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, জেভদেত ইয়িলমাজ, শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনির, ইমোমালি রহমান এবং নিকোল পাশিনিয়ানসহ আরও অনেকে।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ জুলাই খামেনির মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ এবং কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম