দেশজুড়ে

দম্পতিকে লাঠি দিয়ে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান, ভিডিও ভাইরাল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বিভাস সরকার নুপুর জমি ও রাস্তা নির্মাণ নিয়ে এক দম্পতিসহ আরও কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই জনপ্রতিনিধি তার হাতে থাকা একটি চিকন লাঠি দিয়ে রাস্তার পাশে মাটিতে ফেলা অবস্থায় কয়েকজনকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। এসময় ঐ নারী প্রতিবাদ করেও রেহাই পায়নি। এই ঘটানয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ভিডিওটি গত ২৭ জুন ধারণ করা হলেও শনিবার তা সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘুরি কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির উপর রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলে নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের বাড়িও একই এলাকায়।

এলাকাবাসী জানায়, বাসন্তী রানীর বাবা সুনিল সরকার ও উপেন্ড মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন গত ৪০-৫০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে সুনিল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় ১০ বছর আগে সুনিল সরকারের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে শুধু ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্না ও বাসন্তীর নামে লিখে দেন।

Advertisement

বাসন্তী রানী অভিযোগ করেন, তার চাচা উপেন্ড সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের পাশে তাদের জমির উপর জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর। রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে তাকে ও তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন রাস্তা নির্মাণের নামে চেয়ারম্যান জমি দখলের চেষ্টা করছেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

মহেড়া ও ছাওয়ালী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ৭-৮ বছর আগে এই জমি নিয়ে চেয়ারম্যান আদালতে মামলা করেছিলেন। পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ইউপি চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঐ মহিলা এবং তার পরিবার দুষ্টু প্রকৃতির লোক। ভালো যে কোনো কাজে তারা বাধা সৃষ্টি করে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ৭-৮ ফিট জায়গা রয়েছে। এলাকার জনগণ এবং তাদের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছি। ঐ মহিলাসহ আরও কয়েকজন বাধা দিয়েছে। রাস্তার কাজ যাতে বন্ধ না হয় এবং রাস্তাটি যাতে নির্মাণ করা যায় এজন্য তাদের শাসন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্পর্কে কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ দেন তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসজেডএইচ/এএসএম