কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই ফলটি শিশু থেকে বয়স্ক-সব বয়সের মানুষের জন্যই উপকারী। তবে শুধু কলা খেলেই হবে না, এটি কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক সময়ে খেলে কলার পুষ্টিগুণ শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে ভুল সময়ে খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তার পর থেকে বেলা ১১টার মধ্যে কলা খাওয়ার সময়টি সবচেয়ে উপযোগী। অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যবর্তী সময়টি কলা খাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। এ সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে। ফলে কলার কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও খনিজ সহজে কাজে লাগে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।
এছাড়া সকালের মাঝামাঝি সময়ে কলা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং দুপুর পর্যন্ত কর্মক্ষমতাও বজায় থাকে।
ব্যায়ামের আগে ও পরে কেন খাবেন?যারা নিয়মিত জিম করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য কলা একটি আদর্শ খাবার। ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে একটি কলা খেলে এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। আবার ব্যায়ামের পর কলায় থাকা পটাশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট ক্লান্ত পেশি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে এবং শক্তির ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে।
Advertisement
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কলা খেয়ে থাকেন। তবে এটি সবার জন্য ঠিক নাও হতে পারে। খালি পেটে কলা খেলে কিছু মানুষের গ্যাস, অম্বল বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা বা অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, তারা খালি পেটে কলা না খেয়ে অন্য খাবারের সঙ্গে বা নাস্তার পর খেলে বেশি স্বস্তি পেতে পারেন।
আরও পড়ুন অ্যাজমা থাকলে যেসব খাবারে সতর্ক থাকবেন রাতে কি কলা খাওয়া উচিত?রাতে খাবারের পর ফল খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে রাতে কলা খেলে কিছু মানুষের হজম ধীর হতে পারে। এতে পেট ভার লাগা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যাদের সর্দি-কাশি বা সাইনাসের সমস্যা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে রাতের বেলায় কলা খেলে উপসর্গ বাড়ছে বলে কেউ কেউ অনুভব করেন। যদিও এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তবু ব্যক্তিভেদে শরীরের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন শুধু বেশি খেলেই নয়, যেসব ভিটামিনের ঘাটতিতেও বাড়তে পারে ওজন যেভাবে খাবেনকলা একা খাওয়ার পাশাপাশি দই, ওটস, বাদাম বা পিনাট বাটারের সঙ্গে খেলে আরও সুষম পুষ্টি পাওয়া যায়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, হিন্দুস্তান টাইমস
এসএকেওয়াই
Advertisement