বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে রোববার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। তবে দুই দলের লড়াইয়ের বাইরে আরেকটি ব্যক্তিগত দ্বৈরথও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল এবং নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার হালান্ড আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন, যা সাম্প্রতিক ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে।
Advertisement
জাতীয় দলের হয়ে তারা প্রতিপক্ষ হলেও ক্লাব ফুটবলে বহুবার একে অপরের বিপক্ষে লড়েছেন। আর্সেনালের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল এবং ম্যান সিটির স্ট্রাইকার হালান্ডের দ্বৈরথে দেখা গেছে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, কঠিন ট্যাকল, একাধিক উসকানি, এমনকি বল ছুড়ে গ্যাব্রিয়েলের মাথায় আঘাত করার ঘটনাও।
দুজনের সম্পর্ক প্রথম বড়ভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ২০২৪ সালের মার্চে। আর্সেনাল ও ম্যান সিটির গোলশূন্য ড্রয়ের পর ম্যাচ শেষে মাঠেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন গ্যাব্রিয়েল ও হালান্ড। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফকেও। তবে উত্তপ্ত মুহূর্তের পর শেষ পর্যন্ত করমর্দনের মাধ্যমে বিষয়টির ইতি টানেন দুজন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে একই বছরের সেপ্টেম্বরে। ২-২ গোলে ড্র হওয়া এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল করেন। গোলের পর হালান্ড জাল থেকে বল তুলে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাব্রিয়েলের মাথায় ছুড়ে মারেন।
Advertisement
ঘটনাটি ইংল্যান্ডজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিলেও রেফারি কোনো শাস্তি দেননি। ভিএআরও এটিকে সহিংস আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেনি।
পরে হালান্ড বলেন, ‘ওটা ছিল ম্যাচের উত্তেজনার মুহূর্ত। মাঠে যা হয়, তা মাঠেই থেকে যায়। জীবনে এমন অনেক কিছু আছে, যার জন্য আমার অনুশোচনা নেই।’
অন্যদিকে গ্যাব্রিয়েল এটিকে ফুটবলের স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেই দেখেছিলেন, ‘এটা একটা লড়াই, একটা যুদ্ধ। উসকানি ফুটবলেরই অংশ।’
ওই ঘটনার কয়েক মাস পর প্রতিশোধ নেন ব্রাজিলিয়ান এই ডিফেন্ডার। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে আর্সেনালের ৫-১ গোলের জয়ে হালান্ডকে বারবার খোঁচা দেন তিনি। এক গোল উদযাপনের সময় নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের দিকে চিৎকার করেন, আবার এক পর্যায়ে ইঙ্গিত করে তাকে নিজের বুট তুলে আনতেও বলেন।
Advertisement
ম্যাচ শেষে গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘সে আমার মাথায় বল ছুড়ে মেরেছিল। তাই আমিও একইভাবে মজা করে জবাব দিতে চেয়েছি।’ তিনি আরও জানান, সিটির এই স্ট্রাইকারের বিপক্ষে প্রতিটি এক-এক লড়াই তিনি উপভোগ করেন।
পরের মৌসুমেও উত্তেজনা কমেনি। আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির আরেক ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল ও হালান্ডের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, জার্সি টানা এবং মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত দুজনই হলুদ কার্ড দেখেন।
ম্যাচ শেষে হালান্ড অভিযোগ করেন, গ্যাব্রিয়েল নাকি তাকে মাথা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। হালান্ড বলেন, ‘আমি যদি পড়ে যেতাম, তাহলে এটা লাল কার্ড হতে পারতো। আমি কখনো এমনটা করতাম না।’ তবে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রশংসাও করেন তিনি, ‘তার বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই দারুণ এক চ্যালেঞ্জ।’
মাঠে উত্তেজনা থাকলেও মাঠের বাইরে দুজনের সম্পর্ক ভিন্ন। বিভিন্ন ম্যাচ শেষে গ্যাব্রিয়েল ও হালান্ডকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে। এতে স্পষ্ট, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ৯০ মিনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এবার সেই লড়াইয়ের মঞ্চ বিশ্বকাপ। রোববার শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। একদিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হালান্ডকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াসের কাঁধে। অন্যদিকে, বহুবারের পরিচিত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে চাইবেন হালান্ড।
শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত এই ব্যক্তিগত দ্বৈরথে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন অধ্যায়।
আরআর/এমএমআর