ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বোন কাতিয়া আভেইরো দাবি করেছিলেন, চলমান বিশ্বকাপই হবে পর্তুগিজ মহাতারকার জাতীয় দলের হয়ে শেষ টুর্নামেন্ট। তবে ম্যাচ শেষে রোনালদো নিজেই সেই দাবি নাকচ করে জানান, জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনো তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
Advertisement
এদিকে পর্তুগালের সাবেক কিংবদন্তি উইঙ্গার এবং ইউরোপিয়ান কাপজয়ী সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ডধারী আন্তোনিও সিমোয়েস দা কস্তা স্প্যানিশ সংবাদপত্র এএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো ও পর্তুগাল দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে পর্তুগালের খেলা আমার ভালো লাগছে না। আমি মনে করি দলটির বেশ কয়েকটি সমস্যা আছে। শুরুতেই বলব, ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও হোয়াও নেভেস খুব বেশি আড়াআড়ি কিংবা পেছনের দিকে পাস দেয়। অথচ তারা সামনে এগিয়ে উল্লম্ব আক্রমণ গড়তে সক্ষম। তারা আগেও সেটা দেখিয়েছে।’
এরপর রোনালদোকে নিয়ে সিমোয়েস বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর মান বা তার পরিসংখ্যান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। তার ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানের দাবিদার। কিন্তু পর্তুগালের পুরো খেলাটাই যেন তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। মনে হয়, সব সময় বলটা তাকেই দিতেই হবে। অথচ সে এখন ৪১ বছরের একজন ফুটবলার। অনেক সময় বল নেওয়ার জন্য জায়গা খুঁজে পেতেও তার কষ্ট হয়। কেবল কৃতজ্ঞতা দেখিয়ে বা আদেশে তাকে খেলানো যায় না।’
Advertisement
সিমোয়েসের মতে, রোনালদোর বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রভাব থেকে কোচ রবার্তো মার্তিনেজও পুরোপুরি মুক্ত নন। তিনি বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, রবার্তোও এত বড় একটি নামের প্রভাবে থাকেন। কিন্তু কখন তাকে খেলাতে হবে, কখন খেলানো হবে না, কিংবা কখন মাঠ থেকে তুলে নিতে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তার থাকা উচিত। এটাই আসলে ক্রিশ্চিয়ানোর প্রতি প্রকৃত সম্মান। এর উল্টোটা নয়। তার এই বয়সে এসে বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলা ফুটবলারদের একজন হওয়া উচিত নয়।’
আরএএইচইউএল/এমএমআর