খেলাধুলা

স্পেনের অনুপ্রেরণা কেপটাউন, পর্তুগালের সোচি: ডালাসে আইবেরিয়ান ডার্বি

ডালাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের লড়াইয়ের শেষ বাঁশি বাজতেই একটি দলের বিশ্বকাপ মিশনে শেষ হয়ে যাবে এবং আরেকটি দল টিকে থাকবে স্বপ্নপূরণের ট্র্যাকে। জয়ী দলটি যদি স্পেন হয় তাহলে শিরোপা উদ্ধাররের সম্ভাবনা তাদের বেঁচে থাকবে আর পর্তুগাল হলে বিশ্বকাপে টিকে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

Advertisement

দুই দলের রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই ম্যাচ শুধু একটি লড়াই নয়, এই ম্যাচ ইতিহাস, প্রতিশোধ ও অনুপ্রেরণারও মহাকাব্য। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের গ্রিন পয়েন্ট স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ হেরে বিদায় নিয়েছিল পর্তুগাল। ডেভিড ভিয়ার গোলে স্পেন জিতেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা চ্যাম্পিয়নও হয়।

কেপ টাউনের ওই ম্যাচটি দুই দলের বিশ্বকাপ লড়াইয়ের একমাত্র জয়-পরাজয়ের ম্যাচ। সেই কেপ টাউন আজও স্প্যানিশ শিবিরের অনুপ্রেরণা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলছেন, ‘সেদিন যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছিল দল, তা আজও আমাদের শক্তি ও অনুপ্রেরণা।’

অন্যদিকে পর্তুগালের স্মৃতিতে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সোচির ফিশট অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ম্যাচটি। গ্রুপ পর্বের সেই অবিস্মরণীয় ৩-৩ ড্রয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো করেছিলেন হ্যাটট্রিক। পেনাল্টি, ফিল্ড গোল ও ফ্রি-কিক জাদুতে সোচিতে আগুন জ্বালিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।

Advertisement

এটি হতে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। সেটা হলে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ তিনি কতটা রাঙাতে পারেন তা দেখতে অপেক্ষায় তার অসংখ্য ভক্ত। ৪১ বছর বয়সী এই লিজেন্ডের জন্য এই ম্যাচ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করারও সুযোগ।

আইবেরিয়ান ডার্বি সবসময় উত্তপ্ত। ৪১ বারের মুখোমুখিতে স্পেন এগিয়ে ১৭ জয়ে। পর্তুগাল ৬ ম্যাচ জিতলেও তারা সাম্প্রতিক ফর্মে পিছিয়ে নেই।

গত বছর নেশন্স লিগ ফাইনালে পেনাল্টিতে স্পেনকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছে রোনালদোর দল। স্পেনের তরুণ প্রজন্ম ইয়ামাল, পেদ্রি গতিশীল ও কারুকাজ ভিত্তিক ফুটবল খেলেন। আর পর্তুগালের অস্ত্র রোনালদোর অভিজ্ঞতা, ব্রুনো ফার্নান্দেজের সৃজনশীলতা এবং রক্ষণের দৃঢ়তা।

দুই দলের শক্তি প্রায় সমান। স্পেনের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে তিকিতাকা আর পর্তুগালের কাউন্টার অ্যাটাকের লড়াই দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।

Advertisement

২০১৮ বিশ্বকাপের সোচিতে ম্যাচটি নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণা হবে সিআর সেভেনের জন্য। তিনি সেই ম্যাচের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইবেন। তবে মাঝে যে ৮ বছর কেটে গেছে! ৩৩ বছরের রোনালদোর সাথে ৪১ বছরের রোনালদোকে তো মেলানো যাবে না। তবে তার ভক্তরা প্রত্যাশা করেন এই বারুদ এখনো জ্বলে ওঠার সামর্থ্য রাখে। টেক্সাসের ডালাসে আগুন ঝরাবেন।

আরআই/আইএইচএস/