খেলাধুলা

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে বিশেষ পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার

কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও একটি বিষয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- আর্জেন্টিনা এখনো অতিরিক্তভাবে লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মোহাম্মদ সালাহর মিশরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ওঠার আগে নিজেদের খেলার ধরন গুছিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ পাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Advertisement

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর থেকেই আত্মসমালোচনায় ব্যস্ত আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে গড়ানোর ঠিক আগে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পাওয়ায় সম্ভাব্য এক ঐতিহাসিক বিপর্যয় এড়িয়ে স্বস্তি পেয়েছিল দলটি।

তবে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার ধাক্কাও অনুভব করেছে আর্জেন্টিনা, যদিও টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তাদের খেলার মধ্যে সমস্যার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছিল।

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি আলজেরিয়া (৩-০), অস্ট্রিয়া (২-০), জর্ডান (৩-১) এবং শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে (৩-২) আর্জেন্টিনার করা ১১ গোলের মধ্যে সরাসরি জড়িত ছিলেন ৭টিতে।

Advertisement

দলের অধিনায়কের পায়ে বল না থাকলে আর্জেন্টিনার ফুটবল অনেকটাই স্থির, অনুমানযোগ্য এবং আক্রমণভাগে উদ্দেশ্য ও গতি- দু’য়েরই অভাব দেখা যায়।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জেতা দলটি তাদের তীব্রতা ও কৌশলগত গতিশীলতার জন্য পরিচিত ছিল; কিন্তু এখন মনে হচ্ছে দলটি যেন মেসির অনিবার্য জাদুকরী মুহূর্তের অপেক্ষায়ই থাকে। মেসিও টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে সেই প্রত্যাশা পূরণ করে চলেছেন।

ইন্টার মিয়ামির এই তারকাকে ছাড়া আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের মধ্যে কেবল লওতারো মার্তিনেজই গোল পেয়েছেন। সেটিও জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে।

বিশ্বকাপে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে লওতারোর গোল মাত্র একটি। তবুও এই আসরে আর্জেন্টিনার চারটি ম্যাচেই হুলিয়ান আলভারেজের পরিবর্তে শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছেন তিনি।

Advertisement

কাতার বিশ্বকাপজয়ী অভিযানে মেসির অন্যতম সঙ্গী ছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ, যিনি সেই আসরে চারটি গোল করেছিলেন। কিন্তু ‘লা আরানা’ (মাকড়সা) নামে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড এবারের বিশ্বকাপে ২০০ মিনিট খেলেও এখনো কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।

তবুও লওতারো ও হুলিয়ান সমর্থন পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার কাছ থেকে। তার মতে, দুজনই বিশ্বের সেরা সেন্টার ফরোয়ার্ডদের মধ্যে অন্যতম।

বাতিস্তুতা বলেন, ‘ওরা বিশ্বমানের তারকা। আমার মনে হয় ওরা সবকিছুই ঠিকভাবে করছে। আমরা সবসময় চাই তারা গোল করুক, কিন্তু এই মুহূর্তে গোল করছে মেসিই।’

দলের গোলের বড় অংশ মেসির ওপর নির্ভর করছে, এ নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনিও উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের চিন্তার বিষয় নয়।’

স্কালোনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই আমরা চাই দলের সব খেলোয়াড় গোল করুক; কিন্তু যতক্ষণ সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, আমরা জিতছি।’

তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচেই সেই সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচটি দেখিয়েছে, উইঙ্গার কিংবা আক্রমণে উঠে আসা ফুলব্যাক- কোনো দিক থেকেই প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য তৈরি করতে পারছে না আর্জেন্টিনা। এর প্রভাব পড়ছে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনের দিকে ওঠার ক্ষেত্রেও।

দলগত পারফরম্যান্স এখনো প্রত্যাশার পর্যায়ে না পৌঁছালেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, বিশেষ করে মেসির জাদুতেই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৩৯ বছর বয়সী মেসির পা থেকেই কেপ ভার্দের বিপক্ষে তিনটি গোলেরই সৃষ্টি হয়েছে। সামনের কোনো একটি ম্যাচে মেসি যদি কোনো কারণে নিষ্প্রভ হয়ে যান কিংবা প্রতিপক্ষ মেসিকে আটকে রাখে, তখন আর্জেন্টিনার কী হবে?

আরএএইচইউএল/আইএইচএস