উত্তরবঙ্গের (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে।
Advertisement
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গে কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও আধুনিক ফসল-উত্তর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাব, বাজারজাত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অপর্যাপ্ততার কারণে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে কৃষি মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতেই তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদি এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
তহবিলের অর্থ চারটি খাতে নির্ধারিত হারে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে কৃষি উৎপাদন খাতে ১৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।
Advertisement
এছাড়া কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাত এবং কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ খাতের জন্য ৩৫ শতাংশ করে মোট ৭০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ দুই খাতে সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতের জন্য বরাদ্দ ১৫ শতাংশ অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে।
তবে গ্রাহকের প্রকৃত অর্থায়ন চাহিদা বিবেচনায় ব্যাংকগুলো ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে বা বাড়াতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিয়ে খাতভিত্তিক বরাদ্দের হারও পরিবর্তন করা যাবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদ বা মুনাফা হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার হবে ৯ শতাংশ।
Advertisement
ঋণের মেয়াদের ক্ষেত্রে কৃষি উৎপাদন খাতে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৮ মাস সময় পাওয়া যাবে। আর সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি খাতে তিন থেকে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইএআর/এসএনআর