ভারতের পুনের লোহাগড় দুর্গ হত্যা মামলায় বেরিয়ে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রেমিকের সঙ্গে গোপনে বিয়ে সেরেছিলেন মামলার মূল অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী তরুণী সিয়া গোয়েল। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
Advertisement
আগামী নভেম্বর মাসে ২০ বছর বয়সী সিয়া গোয়েল এবং ২৫ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালের ধুমধাম করে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু হয় কেতনের। পুলিশের দাবি, এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না সিয়া। আর তাই প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার এই সুক্ষ্ম নীলনকশা সাজিয়েছিলেন তিনি।
তদন্তে নেমে পুনে গ্রামীণ পুলিশ এখন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় চার মাস আগে সিয়া এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী স্থানীয় একটি রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে গোপনে বিয়ে করেছিলেন।
বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে তাদের কোনো ম্যারেজ সার্টিফিকেট বা বিয়ের শংসাপত্র রয়েছে কিনা, পুলিশ এখন তা যাচাই করছে। যদি এই বিয়ের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেতনের সঙ্গে সিয়ার যে বাগদান হয়েছিল, তা আইনত অবৈধ হয়ে যাবে। এই গোপন বিয়েতে সিয়ার কলেজের যে দুই বন্ধু সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন, পুলিশ এখন তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
Advertisement
পুলিশের একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত দল সিয়ার একটি ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে ফেলা কিছু ছবি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। জানা গেছে, সেই ছবিগুলোতে অভিযুক্ত সিয়া ও চেতনকে গলায় বিয়ের মালা পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
পারিবারিক দেখাশোনার মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন ও সিয়ার বাগদান হয়। কিন্তু তার আগেই চেতনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সিয়ার। গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে যখন কেতন ও সিয়া ঘুরছিলেন, তখন পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, চেতন তাদের পেছন পেছন অনুসরণ করছিলেন এবং সুযোগ বুঝেই কেতনকে পাহাড়ের গিরিখাত থেকে নিচে ঠেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার কয়েকদিন পরেই পুলিশ সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা দুজনেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
Advertisement
এমএসএম