স্থানীয় নির্বাচনে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
Advertisement
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করার পর ইসি বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কাজ করছে।
বিধি সংস্কারে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে ইসি। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনেক সংস্থা। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল: ইসি মাছউদএরই ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ নিয়ে এই সংলাপের আয়োজন। স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেম (আইএফইএস) এর যৌথ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ সংলাপে অংশ নিচ্ছেন।
Advertisement
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত অনেক সুপারিশ পেয়েছি। এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ও আলোচনা করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারব আশা করি। সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সামনের নির্বাচনে সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে অবজার গ্রুপ, অংশীজনদের মতামত নিয়েছি; সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায় সে সুপারিশ আসবে আশা করি। গণতন্ত্রের উত্তরণে এটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে যেসব সুপারিশ এসেছে তা আমরা মূল্যায়ন করছি, যেন এ ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে পারি। দুই দিনের অংশীজন সংলাপে পাওয়া সুপারিশও আমরা কাজে লাগাবো। সামনে স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে, সবার সহযোগিতা কামনা করি।
আরও পড়ুন ইউপি নির্বাচন অক্টোবর থেকে শুরুর পরিকল্পনা: জাহেদ উর রহমানএসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচনের আগে-পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা ধরনের আলোচনা, সহায়তার কথা তুলে ধরেন।
Advertisement
তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমাদের রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছি। এ কর্মশালার মাধ্যমে আলোচনা করে আরও সুপারিশ আসবে আশা করি। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অংশীজনরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ-সুপারিশ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করি।
স্বাগত বক্তব্যে ইপিডির মাইকেল লিডাউয়ের বলেন, এরই মধ্যে অনেকে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। সবাইকে একত্রে নিয়ে এ কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ ভবিষ্যতের কর্মপন্থা তৈরিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে।
সংলাপের বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
এমওএস/ইএ