ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে তার পদত্যাগের ঘোষণায় দিল্লির সেবাদাসদের খুশি হওয়ার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
Advertisement
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।
পোস্টে আবদুল্লাহ আল জাবের লেখেন, দিল্লির সেবাদাসদের খুশি হওয়ার কারণ নেই। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছেড়েছি, ইনকিলাব মঞ্চ নয়।
তিনি আরও লেখেন, আজাদির এই লড়াইকে কোনভাবেই থামানো যাবে না।
Advertisement
এর আগে, বুধবার রাতে পৃথক পৃথক ফেসবুক পোস্টে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিদ্যমান দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জাবের এবং জুমা।
ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে জাবের লেখেন, শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জাবের-জুমার পদত্যাগজাবের লেখেন, আল্লাহ তাআ’লা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও সব দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
অন্যদিকে, ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুক পোস্টে জানান, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাংলাদেশপন্থি সংস্কৃতির স্বার্থে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে, সময়ের সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতা সামনে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নানা আলোচনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপে পড়েন।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা লেখেন, আল্লাহ তাআ’লা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে তার ওয়ারিশদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও সব দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হলেও, এরপর থেকে তার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
তিনি লেখেন, ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে।
এএমএ