জানি,তুমি আমার বেদনা নিয়ে কেন কষ্ট পাওকিন্তু এই বেদনাই আমার আনন্দ,পরমানন্দ শোনো,আমার জীবনের যে প্রচ্ছদ তোমার তুলিতেবর্ণময়-স্বর্ণময়-অর্থময় হয়ে আরেকটি অধ্যায় তৈরী করেআমার হৃদপিণ্ডে সৃজনের লাঙল চালিয়েউৎপাদনযোগ্য করেছে,অনুর্বরতার কলঙ্ক গুছিয়েছেতারপর,অর্থাৎ তারপর থেকেই আমার বেদনাগুলোআনন্দ-পরমানন্দ হয়ে ফিরে ফিরে বলেবেদনার মধুর পানীয়ে সুখপূর্ণ তোমার জীবন ।
Advertisement
এক সময় ভাবতাম,খুব ভাবতাম;নিবিষ্ট মনে ভাবতাম অদৃষ্ট-স্রোতে যেদিকে ভেসে যাই যাবো,তাতে কিআবার আসব ফিরে আসব বেদনার বহুফসলি জমিনে এই ভাবতে ভাবতে কত দিন ঘুমিয়ে গেছি তাও টের পাইনিতুমিই জাগালে,শুধু তা-ই নয়,ঠিকই ফিরে আসার পথও করে দিলেমনে পড়ে তোমার, তোমার মনে পড়ে; গ্রীবা উঁচিয়ে বলেছিলেযে বেদনা তোমাকে কাতর করেছিল তা-ই কিন্তু পুষ্টও করেছে।
ভুলিনি তোমার সেই শান্তনা বাণী, এখনও তা লালন করি কষ্টের পাশেই কি বাস করে স্বস্তি কিংবা কোনো কষ্টই নয় স্থায়ীবেদনা মেনে নিয়ে, কিন্তু মনে নিয়ে নয়; কঠিনেরে বেসেছি ভালোওই যে রবি ঠাকুর বলেছেন,'সে কখনো করে না বঞ্চনা'।
তুই স্পন্দিত অধ্যায়--------------------পাশে শুই,শুয়ে শুয়ে তাকিয়ে থাকিতোকে অল্প কথার গল্প শুনিয়েঘুম পড়ানোর সেই দিনগুলোর ছবি আঁকিআর তখন সুর তোলা তোর গোঙানিহৃদপিণ্ডজুড়ে নুতন করে স্বপ্নের জাল বুনে।
Advertisement
ক্লান্তি-দুর্ভাবনা-বিষন্নতা নিমিষেইকর্পূরের মতো উবে যায় আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেয় এক জোড়াঘুমে নিমগ্ন নিষ্পাপ চোখনিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে তরঙ্গায়িত তোর বুকশান্তি হাতের নাগালে এনে পিতৃত্ব জাগায়।
তোকে যতবার স্পর্শ করি ঠিক ততবারইরক্তের টান যে কতটা শক্তিশালীতা নুতন করে অনুভব করিতুই ছাড়া আমার অর্জন বলে আর কিছু নেইতুই-ই আমার নিভে যাওয়া আশার প্রদীপজীবনের কঠিনতম যুদ্ধেও ফিরে পাইবাঁচার শক্তি,অবিচ্ছেদ্য এবং স্পন্দিত অধ্যায়।
এইচআর/জেআইএম
Advertisement