আইন-আদালত

সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সেই সাংবাদিকের জামিন

সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া ‘ঢাকা প্রতিদিন’র বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমানের (এইচ আর শফিক) জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

Advertisement

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

জামিন শুনানিতে শফিকের পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার রবিউল হোসাইন রবি, অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ এবং অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ আদালতে শুনানিতে অংশ নেন।

এর আগে, সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গত ২১ জুলাই রাতে রাজধানীর মগবাজারের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা থেকে হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement

আরও পড়ুন এআই ভিডিও ছড়ানোর হুমকির মামলায় সাংবাদিক শফিক কারাগারে

পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউল হক। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিক সহযোগীদের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে জামিন দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ারও পরিকল্পনার কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারফাইটার আন্দাম হোসেন বাদী হয়ে হাফিজুর রহমান শফিক, মো. ফজলুল হক, মো. লিটন মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে শফিক বিভিন্ন সময়ে বাদীর কাছে অর্থ দাবি করেন। অর্থ না দিলে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাদীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আবারও অর্থ দাবি করা হয়।

Advertisement

এজাহারে আরও বলা হয়, অপর দুই আসামি ওই ভিডিও নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে বাদীর ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এমডিএএ/কেএইচকে