হঠাৎ পায়ে মচকানো, ব্যায়ামের পর পেশিতে টান, কোমর বা ঘাড়ে ব্যথা-এমন সমস্যায় অনেকেই না ভেবেই গরম বা ঠান্ডা সেঁক দিয়ে বসেন। কিন্তু সব ধরনের ব্যথায় একই ধরনের সেঁক কার্যকর নয়। ভুলভাবে সেঁক দিলে ব্যথা কমার বদলে আরও বাড়তে পারে, এমনকি ফোলাভাব বা প্রদাহও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই ব্যথার ধরন বুঝে সঠিক সেঁক বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
ঠান্ডা সেঁক বা কোল্ড থেরাপি মূলত নতুন আঘাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর। আঘাত পাওয়ার পর শরীরে প্রদাহ ও ফোলাভাব শুরু হয়। ঠান্ডা সেঁক রক্তনালি কিছুটা সংকুচিত করে, ফলে ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন থাইরয়েড সমস্যার সাধারণ উপসর্গগুলো জানেন তো? যেসব ক্ষেত্রে ঠান্ডা সেঁক উপকারী মচকানো বা লিগামেন্টে টান খেলাধুলা বা ব্যায়ামে হঠাৎ আঘাত শরীরের কোনো অংশে ফোলাভাব ছোটখাটো আঘাত বা নীলচে দাগ পোকামাকড়ের কামড়ে ফোলা কীভাবে ব্যবহার করবেন?বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। একটি পাতলা তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ বা আইস প্যাক মুড়ে ১৫-২০ মিনিট সেঁক দিন। প্রয়োজন হলে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর আবার ব্যবহার করতে পারেন, বিশেষ করে আঘাতের প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায়।
আরও পড়ুন জানেন কি ভাত খাওয়ার পর কেন ঘুম আসে? কখন গরম সেঁক উপকারী?গরম সেঁক বা হিট থেরাপি দীর্ঘদিনের ব্যথা, পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া বা জয়েন্টের জড়তা কমাতে বেশি কার্যকর। তাপ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।
Advertisement
হট ওয়াটার ব্যাগ, গরম তোয়ালে বা হিট প্যাড দিয়ে ১৫-২০ মিনিট সেঁক দিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত গরম যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
কখন গরম সেঁক দেওয়া উচিত নয়?আঘাত পাওয়ার পরপরই গরম সেঁক দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এতে আক্রান্ত স্থানে রক্তপ্রবাহ বেড়ে গিয়ে ফোলাভাব ও প্রদাহ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া ত্বকে সংক্রমণ, খোলা ক্ষত বা অজানা কারণে ফোলা থাকলেও গরম সেঁক এড়িয়ে চলা উচিত।
কখন ঠান্ডা সেঁক এড়িয়ে চলবেন?যাদের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা, অতিরিক্ত ঠান্ডায় সংবেদনশীলতা বা কিছু বিশেষ স্নায়বিক রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা সেঁক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় বরফ ধরে রাখলেও ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
আরও পড়ুন হবু মায়েদের জন্য প্রথম তিন মাসের সেরা খাবার ব্যথা কমাতে আরও কিছু পরামর্শ আঘাতের পর আক্রান্ত স্থানকে বিশ্রাম দিন। প্রয়োজন হলে ব্যান্ডেজ বা সাপোর্ট ব্যবহার করুন। ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফোলাভাব, অসাড়তা, তীব্র ব্যথা বা অঙ্গ নড়াচড়া করতে না পারলে দ্রুত হাসপাতালে যান।ব্যথা হলেই গরম বা ঠান্ডা সেঁক দেওয়ার আগে ব্যথার কারণ ও সময়কাল বুঝে নেওয়া জরুরি। সাধারণভাবে, নতুন আঘাত ও ফোলাভাবের ক্ষেত্রে ঠান্ডা সেঁক, আর দীর্ঘদিনের পেশি বা জয়েন্টের ব্যথায় গরম সেঁক বেশি উপকারী। তবে ব্যথা যদি তীব্র হয়, কয়েক দিনেও না কমে বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
Advertisement
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, মেইডলাইট প্লাস
জেএস/