সাহিত্য

উপন্যাস এবং সিনেমায় হ‌ুমায়ূন আহমেদ

একজীবনে হ‌ুমায়ূন আহমেদ যেখানে হাত দিয়েছেন, ফলেছে সোনা। গদ্যের নির্মল পথে হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলে এলেন সিনেমার জগতে। চিত্রনাট্য লিখলেন, পরিচালনা করলেন। গানও লিখেছেন সিনেমার জন্য। যথারীতি এখানেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা, যশ, খ্যাতি ও পুরস্কার।

Advertisement

১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় হ‌ুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’। শুধু হুমায়ূন আহমেদ নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠ ছবিগুলোর একটি। একটি মধ্যবিত্ত পরিবার আর একদল গেরিলাযোদ্ধার মধ্য দিয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদ অসামান্যভাবে উপস্থাপন করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টিকে। মতিন সাহেব বাড়ির কর্তা, সুরমা তার স্ত্রী, তাদের দুই কন্যা—রাত্রি আর অপলা, আর একজন গৃহ-পরিচারিকা, বিন্তি যার নাম—এই নিয়ে মতিন সাহেবের পরিবার। একসময় এই পরিবারে এসে আশ্রয় নেন এক গেরিলাযোদ্ধা। যার নাম বদিউল আলম। বদি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। রাত্রি চরিত্রে বিপাশা হায়াত। মতিন সাহেব—আবুল হায়াত। সুরমা—ডলি জুহুর। অপলা—শীলা আহমেদ। প্রত্যেকে প্রত্যেকটি চরিত্র এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, দেখে মনে হয়েছিল তারা বোধহয় আমাদেরই পরিবারের মানুষ। ৮টি শাখায় ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল। প্রযোজক, কাহিনিকার, সংলাপের জন্য হ‌ুমায়ূন আহমেদ নিজেই পেয়েছিলেন ৩টি।

গল্পটি শুরু হয় এভাবে—অবরুদ্ধ ঢাকায় মতিন সাহেব কানে রেডিও ঠেকিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার শোনার চেষ্টা করছেন। তার ছোট মেয়ে অপলা ডিম ফাটিয়ে কুসুমটি বাটিতে রেখে সেই ডিমের খোসায় ছবি আঁকছে। ভাত খেতে বসে বড় মেয়ে রাত্রি বই পড়ছিল। মা এসে বইটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মেয়ে খুবই বেদনাভরা চোখে বাবার দিকে তাকায়। ব্রিবত পরিবেশ কাটাতে বাবা মেয়েদের একটা মজার গল্প বলার চেষ্টা করেন। সেই ঠিক মুহূর্তেই বাইরে থেকে ভেসে আসে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ! পুরো পরিবারটি তীব্র ভয়ে মুহ্যমান হয়ে যায়।

দর্শক হিসেবে সেই মুহূর্তেই আমরা ছবিটির সাথে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। ছবিটি শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত আমাদের আর নড়াচড়া সম্ভব হয় না। যে কথা সত্য হ‌ুমায়ূন আহমেদের যে কোনো গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রে, সেই কথা সত্য তার যে কোনো চলচ্চিত্র বিষয়েও। গল্পের মধ্য দিয়েই তিনি একটা মোহনীয় জাদু বিস্তার করতে পারতেন পাঠক-দর্শককে একটানা ধরে রাখার। শেষ না করে ওঠা যায় না!

Advertisement

‘আগুনের পরশমনি’ হ‌ুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেছিলেন নিজের উপন্যাস থেকেই, যেটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। যদিও তিনি প্রথম চলচ্চিত্র বানাতে চেয়েছিলেন ‘১৯৭১’ উপন্যাস অবলম্বনে। ১৯৭১ও প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। কিন্তু বাজটের কথা ভেবে ১৯৭১ না বানিয়ে আগুনের পরশমনি বানালেন এবং চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হয়ে রইল। পরবর্তীতে তিনি কেন আর ১৯৭১ বানানোর উদ্যোগ নিলেন না, জানি না। ১৯৭১ বানালে তাও হয়তো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হতো।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরেকটি চলচ্চিত্র হ‌ুমায়ূন আহমেদ বানিয়েছিলেন ‘শ্যামল ছায়া’। শ্যামল ছায়ার গল্পটি আগুনের পরশমনির অনেকটাই বিপরীত। শহরের পরিবর্তে তিনি বেছে নিলেন গ্রাম, নদী; পরিবারের বদলে একদল নৌ-যাত্রী। যারা বস্তুত বাংলাদেশ নামক একটি দেশের জন্মলগ্নের সমস্ত পরিবারকে একসাথে উপস্থাপন করছে। পাকিস্তানি হানাদারদের ভয়ে একদল যাত্রী একটা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই যাত্রীদের মধ্যে আছে হিন্দু-মুসলমান, নারী-শিশু-বৃদ্ধ-যুবক, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিবসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ। একসময় সেই ট্রলারে ওঠে একটা গানের দল। পরে জানা যায়, তারা আসলে ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা। এখানেও আগুনের পরশমনির সাথে একটা পার্থক্য আছে। আগুনের পরশমনিতে ছিলেন শহরের গেরিলারা, আর শ্যামল ছায়াতে গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে অভিনয় করেছিলেন হ‌ুমায়ূন ফরীদি। বিনা দ্বিধায় বলা যায়, তিনি অসামান্য মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন চরিত্রটিতে।

আরও পড়ুন কবি হ‌ুমায়ূন আহমেদ এবং তাঁর কবিতা

শ্যামল ছায়াও দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র কিন্তু শিল্পমানে সম্ভবত আগুনের পরশমনিকে স্পর্শ করতে পারেনি। একটু দ্বিধা নিয়ে এ-কথাও বলা যায়, হ‌ুমায়ূন-নির্মিত আর কোনো চলচ্চিত্রই আগুনের পরশমনির মানের হয়নি। তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ এবং সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ও ভালো, জনপ্রিয়; বিষয়ের দিক দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চলচ্চিত্রের শিল্পমানের বিচারে ততটা বোদ্ধামহলের দৃষ্টি-আকর্ষণ করেনি।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। মূলত একটি গ্রামীণ প্রেমের গল্প: মতি মিয়া একজন গাতক, যার সাথে বায়না ছাড়া আলাপ নিষিদ্ধ। পরিবার-পরিজনহীন মতি মিয়া থাকে গ্রামের নির্জন এক গাছতলায়, ভাঙা ঘরে। প্রতিবেশী তরুণী কুসুম। গোপনে গোপনে ভালোবাসে মতি মিয়াকে। কিন্তু কখনোই প্রকাশ করতে চায় না। ভালোবাসার বদলে মতি মিয়ার প্রতি সে সব সময় বিরক্তিই প্রকাশ করে। আবার মতি মিয়ার নানা প্রয়োজনে সে-ই প্রথম এগিয়ে আসে। মতি মিয়া ও কুসুমের এই মনো-টানাটানির মধ্যেই কুসুমের নিরুদ্দেশ পিতা দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে আসেন এক যুবককে সাথে নিয়ে। সেই যুবকের সাথেই কুসুমের বিয়ে ঠিক করা হয়।

Advertisement

সেসব অবশ্য অনেক পরের গল্প। ছবিটি এবং উপন্যাসটি শুরু হয় ঢাকা শহরের এক সুশিক্ষিত সুন্দরী ডাক্তার তরুণী ও তার কিশোরী বোনের গ্রামে আগমনের মধ্য দিয়ে। রেল-ইস্টিশন থেকে নৌকা করে তাদের গ্রামে নিয়ে আসে ওই মতি মিয়া। গ্রামের এক কালের জমিদার ইরতাজুদ্দিনের নাতনি তারা। তাদের আসা উপলক্ষে সারা গ্রামে সাড়া পড়ে যায়। শুরু হয় অপূর্ব জাঁকজমক উৎসব। উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদ একটু একটু করে গল্পের সুতো ছাড়তে থাকেন, আর দর্শকদের বাঁধতে থাকেন। একসময় জানা যায় ইরতাজুদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এ নিয়ে ছেলের সাথে তার দূরত্ব। যার কারণে ছেলেও বাড়ি আসে না, তিনিও কখনো ঢাকা যান না। নাতনি শাহানাও দাদাকে ওই কারণে ক্ষমা করতে পারে না। গ্রামের মানুষজনও ইরতাজুদ্দিনকে পছন্দ করে না।

যাই হোক, পুরো গল্প বলাটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, আলোচনার সুবিধার্থে আমরা শুধু কিছু সূত্র ধরিয়ে দিতে চাই। গ্রাম-সংস্কৃতির উপস্থাপন—ধনী-গরিবের বৈষম্য—দুটো শ্রেণির দূরত্ব—কিছুটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—এসব গল্পের মধ্য দিয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদ আবহমান বাংলার দারুণ এক চিত্র উপস্থান করেছেন শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে। এই ছবিটিও হ‌ুমায়ূন আহমেদ বানিয়েছেন নিজের উপন্যাস থেকেই। যদিও উপন্যাসের সাথে গঠনগত দিক দিয়ে কিছুটা পার্থক্য আছে চলচ্চিত্রটির। উপন্যাসে তিনি যে-গানগুলো ব্যবহার করেছিলেন; সেগুলো না করে ছবিতে ব্যবহার করেছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত বাউল উকিল মুন্সি ও রশিদ উদ্দিনের কয়েকটি গান। হ‌ুমায়ূন আহমেদ নিজেও তিনটি গান লিখেছিলেন। হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখা তিনটি গানের একটি গান গেয়েছিলেন আকলিমা বেগম, একটি সুবীর নন্দী আরেকটি মেহের আফরোজ শাওন। পরবর্তীতের ক্যাসেটের জন্য সাবিনা ইয়াসমিন। বাকি সব গানই গেয়েছেন বারী সিদ্দিকী।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবির সবচেয়ে অসামান্য দিক এই গানগুলো। পুবালি বাতাসে, আমার গায়ে দুঃখ সয়, শুয়া চান পাখি, একটা ছিল সোনার কন্যা—গানগুলো ঝড়ো বাতাস ও অবিরাম বৃষ্টির মতো ছড়িয়ে পড়ে সারাবাংলায়। তখনো সিডি-কম্পিউটার এত জনপ্রিয় হয়নি, ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছায়নি, স্মার্টফোন ছিল কল্পনার বাইরে। ফেসবুক-ইউটিউব আসেনি। রেডিও-ক্যাসেটই জনপ্রিয়। হাটে-বাজারে, ঘরে-ঘরে ছবি গানগুলো বাজতো দিনের পর দিন। ছবিটি কোনো কোনো সিনেমা হলে কয়েস মাস চলেছে। আর গানগুলো? কয়েক বছর ধরে মাতিয়ে রেখেছিল বাংলার মানুষকে। বারী সিদ্দিকী রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন হ‌ুমায়ূন আহমেদের নাটকে মুসলিম রীতি-নীতি

হ‌ুমায়ূন আহমেদ অন্য সব নাটক-সিনেমায় যেসব গান ব্যবহার করেছেন; সেগুলোও জনপ্রিয় হয়েছে। শুধু নিজের লেখা গান নয়, তিনি বাংলাদেশের অনেক বিখ্যাত ও অখ্যাত গায়ক-শিল্পী-বাউলকেই তরুণ-প্রজন্মের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে হাছন রাজা, জালালউদ্দিন খাঁকে। এটা অন্য এক আলোচনার বিষয়। আমাদের এই আলোচনা ‘উপন্যাস ও সিনেমায় হ‌ুমায়ূন আহমেদ’ নিয়েই থাকুক।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের অন্য কয়েকটি চলচ্চিত্র দুই দুয়ারী (২০০০), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭), আমার আছে জল (২০০৮) এক শ্রেণির দর্শক আকৃষ্ট করলেও ঠিক সেইভাবে চলচ্চিত্র হয়ে ওঠেনি। চলচ্চিত্রের বিশাল ক্যানভাস, বিষয়, নির্মাণশৈলী এগুলোতে অনুপস্থিত। তার নির্মিত নাটকের মতোই অনেকটা। তবে তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২) একেবারেই অন্যরকম একটি চলচ্চিত্র। শুধু হ‌ুমায়ূনীয়-বিষয় হিসেবে নয়, বাংলা চলচ্চিত্রেই এরকম কোনো বিষয় নিয়ে এর আগে কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণের সাহস করেননি। ঘেটুপুত্র কমলার মধ্য দিয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদ ভাটি-অঞ্চলের এক অদেখা জগতকে দর্শকের সামনে উন্মোচন করেছিলেন।

ভাটি অঞ্চলের মানুষদের বছরের প্রায় অর্ধকটা সময় পানিবন্দি থাকতে হয়। এ সময়টা সাধারণ মানুষেরা গান-বাজনা করে সময় কাটায়। তাই আমরা দেখি সিলেট-ময়মনসিংহ অঞ্চলে বহুরকম লোক-সংস্কৃতি ও লোকগানের বিকাশ হয়েছে। এরকমই এক লোকগান ঘেটুগান। দর্শক আকৃষ্ট করার জন্য সুন্দর কিশোরদের মেয়েদের পোশাক পরিয়ে এই ঘেটুগানে নাচানো হতো। এভাবে একসময় এই ঘেটুগানে কিছু অপসংস্কৃতিও ঢুকে পড়ে। অনেক জমিদার এই কিশোরদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ঘেটুপুত্রদের প্রতি এক জমিদারের আকৃষ্ট হওয়ার গল্প নিয়েই ঘেটুপুত্র কমলা ছবিটি। অশ্লীলতা এড়িয়ে অসামান্য এক মানবিক গল্প উপস্থাপন করেছিলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। নির্মাণের দিক দিয়েও ছবিটি অন্যরকম।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের পুরো মনোযোগটি ছিল গল্প বলার দিকে, সাহিত্য রচনার দিকে। গল্প বলা ছাড়াও যে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও কিছু কারিগরী দিক থাকা দরকার। সে সম্পর্কে হ‌ুমায়ূন আহমেদ খুব বেশি মনোযোগী ছিলেন না বলেই মনে হয়। যার কারণে তার ছবিগুলো সাধারণ দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারলেও চলচ্চিত্র-বোদ্ধাদের সেভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নিয়ে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন অন্য কয়েকজন পরিচালক। ‘পুতুল’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘দূরত্ব’ এবং ‘প্রিয়তমেষু’ অবলম্বনে ‘প্রিয়তমেষু’ নির্মাণ করেছিলেন মোরশেদুল ইসলাম। ‘জনম জনম’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘নিরন্তর’ নির্মাণ করেছিলেন আবু সাইয়ীদ। ‘দারুণচিনি দ্বীপ’ নির্মাণ করেছিলেন তৌকীর আহমেদ। অনেক চলচ্চিত্র বিশ্লেষক দাবি করেন, হ‌ুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে হ‌ুমায়ূন আহমেদের চেয়ে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন অন্য সব পরিচালকেরা। এসব চলচ্চিত্র বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং পুরস্কার অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন হ‌ুমায়ূন আহমেদের নাটকের শিল্পপ্রবণতা

হ‌ুমায়ূন আহমেদের আরও সব গল্প-উপন্যাস নিয়েই দারুণ সব চলচ্চিত্র নির্মিত হতে পারে। অনুমতি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা বন্ধ আছে। আমরা মনে করি, অনুমতি-সংক্রান্ত জটিলতা কাটলে ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র-নির্মাতারা হ‌ুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকে সিনেমার পর্দায় আরও নতুনভাবে, উজ্জ্বলতার সাথে তুলে ধরতে পারবেন।

এসইউ