মতামত

‘ফার্মের মুরগি’ নয়, আমরা কেমন প্রজন্ম গড়ছি?

বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ কালো। রাস্তায় পানি। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুপানি, কোথাও কোমরপানি। পরীক্ষার্থী ছাতা হাতে, প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে ছুটছে। কারও বাবা মোটরসাইকেলে সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন, কারও মা বারবার ফোন করে জানতে চাইছেন—‘কেন্দ্রে পৌঁছেছ তো?’

Advertisement

এই দৃশ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। বর্ষা এ দেশে আসে প্রতি বছর। বৃষ্টি হয় প্রতি বছর। জলাবদ্ধতাও হয় প্রায় প্রতি বছর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বৃষ্টি এলেই আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন নতুন করে নিতে হয়। পরীক্ষা হবে কি হবে না, স্কুল খুলবে কি বন্ধ থাকবে, শিক্ষার্থীরা ভিজলে অসুস্থ হবে কি না—এসব প্রশ্ন যেন বর্ষার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জাতীয় আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলনের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলা হয়েছে কি না—এ নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘এরা তো ফার্মের মুরগি, একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, একদিন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এলে পরের তিন দিন পরীক্ষায় অংশ নিতে সমস্যা হতে পারে।

বক্তব্যটি যে প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, সেটি আলাদা বিষয়। কথার উদ্দেশ্য হয়তো ছিল শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার আশঙ্কা বোঝানো। কিন্তু একটি শব্দ কখনো কখনো কথার উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে যায়। ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি সেই কাজটিই করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক হয়েছে, এমনকি ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি প্রতিবাদের স্লোগানেও পরিণত হয়েছে।

Advertisement

তবে এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সম্ভবত অন্য জায়গায়। প্রশ্নটি হলো—শিক্ষার্থীরা যদি সত্যিই প্রকৃতির সামান্য প্রতিকূলতায় দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের এমন করে গড়ে তোলার দায় কার?

শিক্ষার্থীরা কি নিজেরাই নিজেদের ‘ফার্মের মুরগি’ বানিয়েছে?

ঢাকার একটি শিশুর কথা ভাবুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুল। স্কুল শেষে কোচিং। তারপর আরেক ব্যাচ। বাসায় ফিরে গৃহশিক্ষক। রাত জেগে পড়াশোনা। তার দিনের সবচেয়ে বড় শারীরিক পরিশ্রম হয়তো বাসার দরজা থেকে গাড়ি পর্যন্ত হাঁটা। খেলাধুলার মাঠ নেই, সাঁতারের সুযোগ নেই, নিয়মিত শরীরচর্চা নেই। রোদে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই, বৃষ্টিতে ভেজার সুযোগ নেই, কাদায় হাঁটার সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তৈরি বিতর্ক আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার জন্য তাদের দোষারোপ করার আগে আমাদের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। আমরা কি তাদের মাঠ দিয়েছি? আমরা কি তাদের খেলাধুলার সময় দিয়েছি? আমরা কি তাদের সাঁতার শিখিয়েছি? আমরা কি তাদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করেছি? আমরা কি তাদের এমন শিক্ষা দিয়েছি, যেখানে শরীর ও মন—দুটিই সমান গুরুত্ব পায়? নাকি আমরা নিজেরাই তাদের সারাদিন বই, পরীক্ষা, কোচিং আর ফলাফলের খাঁচায় বন্দি রেখেছি?

তারপর আমরা একদিন হঠাৎ বলি—‘এই প্রজন্ম এত দুর্বল কেন?’

Advertisement

এ যেন শিশুকে সারাজীবন কাচের বাক্সে রেখে একদিন পাহাড়ে তুলে দিয়ে বলা—‘এবার দৌড়াও।’

আমরা সন্তানদের রোদ থেকে বাঁচাই, বৃষ্টি থেকে বাঁচাই, ধুলো থেকে বাঁচাই, কাদা থেকে বাঁচাই, জীবাণু থেকে বাঁচাই। তারপর বিস্মিত হই—তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কেন? তাদের শরীর এত নাজুক কেন? তারা সামান্য পরিবর্তিত আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে কেন?

শিশুকে সুস্থ ও সক্ষম করে গড়ে তোলার জন্য শুধু বই, কোচিং, পরীক্ষা আর জিপিএ যথেষ্ট নয়। একটি শিশুর শরীরও শিক্ষা চায়। তার ফুসফুস বাতাস চায়, পেশি নড়াচড়া চায়, শরীর ঘাম চায়, মন খেলার স্বাধীনতা চায়।

কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শিশুকে মানুষ হিসেবে নয়, পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার নম্বর আছে, ফলাফল আছে, রোল নম্বর আছে, জিপিএ আছে; কিন্তু তার দৈনিক কতক্ষণ সে খেলেছে, কতটা শারীরিক পরিশ্রম করেছে, সাঁতার জানে কি না, বিপদে নিজের শরীর ও মনকে সামলাতে পারে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায় অপ্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশে বহু স্কুলে মাঠ নেই। যে মাঠ আছে, সেটি কখনো অনুষ্ঠানস্থল, কখনো নির্মাণসামগ্রী রাখার জায়গা, কখনো পার্কিংয়ের জায়গা। শহরে শিশুরা খেলবে কোথায়? ফুটপাত দখল, রাস্তা গাড়িতে ভরা, খেলার মাঠ অপ্রতুল। জলাশয় আছে, কিন্তু নিরাপদ সাঁতার শেখার ব্যবস্থা নেই। পুকুর আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। স্কুল আছে, কিন্তু শরীরচর্চার শিক্ষক নেই বা থাকলেও পর্যাপ্ত কার্যক্রম নেই।

তারপর বৃষ্টি হলে আমরা শিক্ষার্থীদের বলি—‘একটু ভিজলেই জ্বর আসে!’

একটু ভেবে দেখলে, কথাটির মধ্যে অভিযোগের চেয়ে আত্মসমালোচনার জায়গাই বেশি।

শিক্ষার্থীদের শরীর প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে কীভাবে? তারা রোদ সহ্য করবে কীভাবে, যদি তাদের প্রতিদিন রোদে বের হতে না দেওয়া হয়? তারা বৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হবে কীভাবে, যদি বৃষ্টির প্রথম ফোঁটাতেই আমরা তাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিই? তারা সাঁতার শিখবে কীভাবে, যদি জলাশয়কে শুধু বিপদের উৎস হিসেবে দেখা হয়? তারা শারীরিকভাবে সক্ষম হবে কীভাবে, যদি শিক্ষা মানেই হয় চেয়ারে বসে বই মুখস্থ করা?

উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার ধারণা অনেক বিস্তৃত। সেখানে বিদ্যালয় শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতিস্থল নয়; এটি জীবন প্রস্তুতির জায়গা। খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা, সাঁতার, বাইরের পরিবেশে শেখা, দলগত কার্যক্রম—এসবকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হয়। শিশুকে শুধু প্রতিকূলতা থেকে দূরে রাখা হয় না; নিরাপদ পরিবেশে তাকে প্রতিকূলতার সঙ্গে পরিচিতও করানো হয়।

কারণ জীবনের বাস্তবতা কোনো পরীক্ষার হল নয়। সেখানে সবসময় ছাতা থাকে না। সবসময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ থাকে না। সবসময় রাস্তা শুকনো থাকে না। কখনো বৃষ্টি আসে, কখনো তাপপ্রবাহ, কখনো ঝড়, কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কখনো যানজট, কখনো অনিশ্চয়তা। একজন নাগরিককে এসবের মধ্য দিয়েই বাঁচতে হয়।

তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য আছে। বৃষ্টিতে ভেজা মানেই যে কেউ অসুস্থ হবে—এমন নয়। আবার বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় ভিজে থাকা, জলাবদ্ধতার নোংরা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করা, বজ্রপাতের ঝুঁকি নেওয়া কিংবা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হওয়াও কোনো সুস্থ নীতির অংশ হতে পারে না।

প্রকৃত সমস্যা তাই বৃষ্টি নয়; সমস্যা হলো প্রস্তুতির অভাব।

যে দেশে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যেখানে গণপরিবহন অপ্রতুল, যেখানে অনেক শিক্ষার্থী দূরবর্তী এলাকা থেকে পরীক্ষা দিতে যায়, সেখানে শুধু ‘শিক্ষার্থীরা একটু কষ্ট সহ্য করুক’ বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তুলতে হবে, কিন্তু রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব হলো নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পরিবেশ তৈরি করা।

এখানেই শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তৈরি বিতর্ক আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার জন্য তাদের দোষারোপ করার আগে আমাদের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। আমরা কি তাদের মাঠ দিয়েছি? আমরা কি তাদের খেলাধুলার সময় দিয়েছি? আমরা কি তাদের সাঁতার শিখিয়েছি? আমরা কি তাদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করেছি? আমরা কি তাদের এমন শিক্ষা দিয়েছি, যেখানে শরীর ও মন—দুটিই সমান গুরুত্ব পায়?

নাকি আমরা নিজেরাই তাদের সারাদিন বই, পরীক্ষা, কোচিং আর ফলাফলের খাঁচায় বন্দি রেখেছি?

একজন শিক্ষার্থী যদি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পড়াশোনা, কোচিং ও পরীক্ষার চাপে থাকে, তাহলে তার শরীর দুর্বল হবে—এটাই স্বাভাবিক। একটি শিশুকে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় রেখে তার কাছ থেকে ক্রীড়াবিদের মতো সক্ষমতা আশা করা যায় না। শিশুকে সবসময় জীবাণুমুক্ত কক্ষে রেখে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশাও বাস্তবসম্মত নয়।

তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত—‘শিক্ষার্থীরা ফার্মের মুরগি কেন?’

আরও বড় প্রশ্ন—‘তাদের ফার্মের মুরগি বানাল কে?’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই বিতর্ককে কেবল একটি মন্তব্যের রাজনৈতিক বা সামাজিক বিতর্ক হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে নিতে পারে। দেশের প্রতিটি স্কুলে ন্যূনতম শারীরিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাঠ থাকা সম্ভব না হলে কাছাকাছি মাঠ ব্যবহারের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সাঁতার শেখানোকে বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে শিক্ষার অংশ করা যেতে পারে। শহরাঞ্চলে স্কুলভিত্তিক ইনডোর স্পোর্টস, হাঁটা, দৌড়, ব্যায়াম ও নিরাপদ শারীরিক কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব। কারণ অসুস্থ, ভীত, শারীরিকভাবে দুর্বল ও মানসিকভাবে চাপে থাকা শিক্ষার্থী দিয়ে ভবিষ্যতের শক্তিশালী নাগরিক তৈরি করা যায় না।

আমাদের সন্তানদের কাচের বাক্সে রাখা ফুল নয়, আবার ঝড়ের মধ্যে ছুড়ে দেওয়া অসহায় প্রাণীও নয়। তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রকৃতিকে ভয় না পায়, কিন্তু প্রকৃতির শক্তিকে অবহেলাও না করে। তারা বৃষ্টিতে ভিজতে পারে, আবার কখন আশ্রয় নিতে হবে তাও জানে। তারা দৌড়াতে পারে, সাঁতার কাটতে পারে, পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে পারে। তারা পরীক্ষার হলে তিন ঘণ্টা লিখতে পারে, আবার জীবনের পরীক্ষায়ও ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যদি তারা দুর্বল হয়ে থাকে, তাহলে তাদের নিয়ে হাসাহাসি করার আগে আমাদের আয়নায় তাকানো উচিত। কারণ শিশুরা নিজেদের পরিবেশ নিজেরা তৈরি করে না। আমরা তাদের জন্য যে সমাজ বানাই, তারা তার মধ্যেই বড় হয়।

মাঠহীন শহর, খেলাধুলাহীন শিক্ষা, সাঁতারহীন শৈশব, বিশ্রামহীন পড়াশোনা, প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন জীবন—এসবের পরিণতি যদি কোনো প্রজন্মের শরীরে দেখা যায়, তাহলে দায়টা শুধু সেই প্রজন্মের নয়।

শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বানানোর দায় শিক্ষার্থীদের নয়। দায় আমাদের—অভিভাবকদের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, নীতিনির্ধারকদের এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজের।

তাই শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এই শিক্ষার্থীদের একটু বৃষ্টিতে ভিজতে শেখানোর আগে আমাদের তাদের জন্য বৃষ্টি থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে। তাদের শক্ত হতে বলার আগে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর মতো মাঠ দিতে হবে। তাদের প্রকৃতির সঙ্গে লড়তে বলার আগে প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে দিতে হবে।

কারণ একটি জাতি কেবল পরীক্ষার ফলাফলে শক্তিশালী হয় না। শক্তিশালী জাতি তৈরি হয় এমন মানুষ দিয়ে, যারা বই পড়তে পারে, চিন্তা করতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে, সাঁতার কাটতে পারে, বৃষ্টিতে হাঁটতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ঝড়ের মধ্যেও নিজের পথ খুঁজে নিতে পারে।

আমরা যদি সত্যিই চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা ‘ফার্মের মুরগি’ না হয়ে উঠুক, তাহলে তাদের নিয়ে কটাক্ষ নয়—তাদের জন্য একটি জীবন্ত, উন্মুক্ত, স্বাস্থ্যকর ও প্রকৃতিবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। নইলে একদিন হয়তো আমরা আবারও প্রশ্ন করব—‘এই প্রজন্ম এত দুর্বল কেন?’

আর তখন উত্তরটি খুব কঠিন হবে না।

কারণ আমরা তাদের বড় করেছি এমন এক সমাজে, যেখানে শিশুকে বৃষ্টি থেকে বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু বৃষ্টির সঙ্গে বাঁচতে শেখানো হয়নি।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/জেআইএম