স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ট্র্যাকার ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য (ওয়্যারেবল) ডিভাইসে ব্যবহারকারীর নিজে ব্যাটারি পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ফলে ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ব্যাটারি বিধিমালার আওতায় এসব ডিভাইসে ব্যবহারকারী-পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি বাধ্যতামূলক হবে না।
Advertisement
ইউরোপীয় কমিশনের খসড়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ট্র্যাকার, স্মার্ট গ্লাস এবং পোশাক বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীর সঙ্গে সংযুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো এই ছাড়ের আওতায় থাকবে। এছাড়া কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক খেলনা, বহনযোগ্য থার্মোমিটার, যানবাহনের নির্দিষ্ট টেলিম্যাটিকস ডিভাইস এবং বিস্ফোরণ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবহৃত যন্ত্রও একই সুবিধা পাবে।
কমিশনের মতে, এসব ডিভাইসে ব্যবহারকারীর জন্য সহজে ব্যাটারি খুলে ফেলার ব্যবস্থা করলে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের সুযোগ রাখতে হবে।
আরও পড়ুন পিক্সেল সিরিজের নতুন ওয়াচ আনলো গুগলযদিও ওয়্যারলেস ইয়ারবাডের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবুও অ্যাপলের এয়ারপডসের মতো পণ্যও এই ছাড়ের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Advertisement
অন্যদিকে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ ফোনের ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ রাখতে হবে, তবে সেটি পেছনের কভার খুলে সহজেই বদলানো যাবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করলে বা বিশেষায়িত পদ্ধতিতে নিরাপদে ব্যাটারি বদলানো সম্ভব হলে তা ইইউর বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের এই খসড়া সিদ্ধান্ত এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। কোনো আপত্তি না এলে সরকারি গেজেটে প্রকাশের ২০ দিন পর এটি কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালে নতুন ব্যাটারি বিধিমালা চালু করে, যার মূল লক্ষ্য ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) কমানো এবং পণ্যের আয়ুষ্কাল বাড়ানো। আগে অনেক স্মার্টফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যাটারি নষ্ট হলে পুরো ডিভাইসই বদলে ফেলতে হতো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটারি সহজে পরিবর্তন বা মেরামত করা গেলে একই ডিভাইস আরও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে নতুন পণ্য তৈরির প্রয়োজন কমবে, মূল্যবান কাঁচামালের অপচয় হ্রাস পাবে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।
আরও পড়ুন ৩ মিনিট চার্জেই ঘণ্টাখানেক গান শোনা যাবে ইয়ারবাডেতবে স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ট্র্যাকার, স্মার্ট গ্লাসসহ কিছু ওয়্যারেবল ডিভাইসের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কারণ এসব ডিভাইসের আকার খুব ছোট এবং পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাটারিকে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত রাখা প্রয়োজন হয়। তাই ব্যবহারকারী নিজে ব্যাটারি পরিবর্তন করতে না পারলেও প্রয়োজনে অনুমোদিত বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকবে।
Advertisement
সূত্র: এনগ্যাজেট
শাহজালাল/কেএসকে