‘আমরা এখানেই থাকতে চাই। মালয়েশিয়ার মানুষ খুবই ভালো।’ কেলান্তানে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) অভিযানে আটক হওয়ার পর এমনই আকুতি জানান ৩০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা যুবক উসমান।
Advertisement
শুক্রবার কেলান্তানে পরিচালিত অভিযানে আটক হওয়া ৩৬২ অভিবাসীর একজন উসমান। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে কুবাং কেরিয়ানের পাসির হর এলাকায় বসবাস করছেন। এই সময়ে তার দুটি সন্তান হয়েছে। কিন্তু যদি মালয়েশিয়া ছাড়তে বাধ্য করা হয়, তাহলে কোথায় যাবেন তা তিনি জানেন না।
আরও পড়ুন অসুস্থ প্রবাসী হারুনকে দেখতে হাসপাতালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলউসমান বলেন, আমাদের কোনো দেশ নেই। অনেক মানুষ আমাদের পছন্দ করেন না, সেটাও জানি। কিন্তু একজন রোহিঙ্গা অপরাধ করলে পুরো জাতিকেই অপরাধী হিসেবে দেখা হয়। অথচ আমরা সবাই খারাপ নই।
পেশায় নির্মাণশ্রমিক উসমান জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার মজুরি পাওয়ার পর শুক্রবার তিনি নিয়মিত কোটা ভারু শহরে পরিবারের জন্য খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আসতেন। সেখানেই ইমিগ্রেশন অভিযানে তিনি আটক হন।
Advertisement
একই অভিযানে আটক হওয়া ৩১ বছর বয়সী এবদিল্লাহ জানান, তিনি গত ১২ বছর ধরে কেলান্তানে বসবাস করছেন এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর পরিচয়পত্র থাকলেও সবসময় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাতে হয় বলে জানান তিনি।
এবদিল্লাহ বলেন, তবুও আমি কৃতজ্ঞ। এখানকার স্থানীয় মানুষ আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। মালয়েশিয়া নিরাপদ একটি দেশ এবং এখানে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের এখান থেকে বের করে দেওয়া হয়, তাহলে কোথায় যাব জানি না। আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে এবং জীবিকা নির্বাহ করতে চাই।
নির্মাণশ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৮০ রিঙ্গিত আয় করেন এবদিল্লাহ। তিনি জানান, প্রতি শুক্রবার কোটা ভারু শহরে বাজার করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা তাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
Advertisement
অন্যদিকে, ২৬ বছর বয়সী অবিবাহিত সালমান জানান, ছয় বছর ধরে তিনি কেলান্তানে বসবাস করছেন এবং একটি দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সালমান বলেন, মালয়েশিয়ায় আসতে তিনি একজন এজেন্টকে ৩ হাজার রিঙ্গিত দিয়েছিলেন। এর আগে সেলাঙ্গরে কাজ করলেও বর্তমানে কেলান্তানে বসবাস ও কাজ করেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
কেলান্তানে পরিচালিত সর্বশেষ অপস মেগা অভিযানে মোট ৩৬২ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশটির অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এমআরএম