খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। টানা কয়েকদিনের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তদন্তের স্বার্থে তালাগুলো খুলে দিয়েছেন। তবে দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
Advertisement
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জুলাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সব স্কুলের ডিন ও ডিসিপ্লিন প্রধানদের নিয়ে একটি সভা হয়। সভা শেষে ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের মাধ্যমে একাডেমিক কাউন্সিলের দুজন প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এর আগে, গত ২২ জুলাই বুধবার রাতে বিজয় ২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যান্টিনের কর্মীকে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়, একই ঘটনায় গ্রেফতার হন তার স্ত্রীও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সম্প্রতি দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার ক্ষোভও।
Advertisement
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন যৌন হয়রানির বিচার দাবিতে খুবিতে অনির্দিষ্টকালের ‘শাটডাউন’আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের প্রথম দাবি, হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তৃতীয় দাবি, সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ নামের ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দাবিগুলো নিয়ে সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি হয়নি, উল্টো প্রশাসন আইনি জটিলতার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে। দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী ৫ কর্মদিবস এর মধ্যে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।
এনএইচআর/জেআইএম