শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান কার্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
Advertisement
তার স্থলে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আলী ইমাম। তিনি ইইডির চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন। রোববার (২৬ জুলাই) তার নতুন পদে যোগদান করার কথা রয়েছে।
গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ অধিশাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শাহজাহান আলীকে ওএসডি ও আলী ইমামকে নতুন পদে পদায়ন করা হয়।
আরও পড়ুন ঢাবি থেকে ডিসিইউ / সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের রোডম্যাপ শিগগির নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি, এবার ওএসডিঅন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়। পদোন্নতির ওই আদেশে চার নম্বরে ছিলেন শাহজাহান আলী। তাকে প্রধান কার্যালয়ে পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়।
Advertisement
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইইডি সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মোট পদ ১২টি। ৯টি সার্কেলে ৯টি এবং প্রধান কার্যালয়ের তিন অধিশাখায় তিনটি পদ রয়েছে। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দুটি পদ শূন্য ছিল। অথচ পদোন্নতি পান পাঁচজন। পদ ফাঁকা না থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে শাহজাহানসহ তিনজনকে পদায়ন করা হয়। তখন এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এদিকে, শাহজাহান আলীকে ওএসডি করার ঘটনায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তারাও বদলি আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন।
আরও পড়ুন নাম-জন্মতারিখ সংশোধন নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা ওএসডির নেপথ্যে কীইইডি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার সঙ্গে বেশি কাজ করে থাকে। এ দুটি শাখার দুজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ফাইল আটকে ইইডির কয়েকজন কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিতেন। বেশ কয়েকটি অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও আসে। সেখানে শাহজাহান আলীরও নাম ছিল।
তারা আরও জানান, শাহজাহান আলী আওয়ামী লীগের আমলেও সুবিধাভোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিভিন্ন মন্ত্রী ও এমপির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাদের সঙ্গে ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ নিয়েও তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেকে।
Advertisement
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। আগে যারা সরকারে ছিলেন, তাদের সঙ্গে ছবি থাকার বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়, বরং সরকারি প্রোটোকলের কারণে তোলা হয়েছে। কোনো জেলায় কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলীকে ওই জেলায় মন্ত্রীর সফর থাকলে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যেতে হয়। সেভাবে আমিও গিয়েছি। তখনকার তোলা ছবি ব্যবহার করে একটি মহল কুৎসা রটাচ্ছে।’
যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ অনিয়মে জড়ালে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’
এএএইচ/একিউএফ