ক্যাম্পাস

সমন্বয়কদের আন্দোলন প্রত্যাহার, রাবিতে হাল ধরেন সালাউদ্দিন আম্মার

কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২৫ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ সমন্বয়কারীর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি করে তীব্র বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা। অনেকেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে ২৬ জুলাই সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারের একটি সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্ট- ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখনো আন্দোলন থেকে সরে আসেনি’। এর মাধ্যমেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা, সাহস ও সমন্বয়ের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

২০২৪ সালের এই দিনে টানা কয়েকদিনের কঠোর কারফিউ কিছুটা শিথিল করার ঘোষণা দেয় সরকার। জানানো হয়, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে শুক্র ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। এ ঘোষণা দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কিন্তু কারফিউ শিথিল হলেও সারা দেশে থামেনি ধরপাকড়।

১৭ থেকে ২৬ জুলাই এই ১০ দিনে সারা দেশে মোট ৬ হাজার ২৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে শুধু ২৫ জুলাই রাত থেকে ২৬ জুলাই দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতার হন ৭৬৫ জন। রাজধানীতে এদিন গ্রেফতার করা হয় ২০৭ জনকে। ১০ দিনে শুধু ঢাকাতেই গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৪১৬ জন। একই সময়ে ঢাকায় আরও আটটি এবং ঢাকার বাইরে ২২টি নতুন মামলা দায়ের হয়।

‘ফেসবুকে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আবার সাড়া দিতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে আন্দোলন শেষ হয়নি। নতুন করে সাহস ফিরে আসে এবং সবাই আবার আন্দোলনের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত হয়। সেই সময় এখনকার মতো পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ছিল না। ছাত্র প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য একটি কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছিল।’

Advertisement

এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সময়ে বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলি ব্যবহারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নাম পরিবর্তন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘শহিদ রুদ্র তোরণ’ নামকরণ করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর আসে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান/ ছবি: জাগো নিউজ

২৬ জুলাই বিকেলে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক- নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর আগেও ১৯ জুলাই গভীর রাতে নাহিদ ইসলামকে তুলে নিয়ে ২১ জুলাই পূর্বাচলে ফেলে যাওয়া হয়। একইভাবে আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকেরকেও তুলে নেওয়ার পর ২৪ জুলাই হাতিরঝিল ও ধানমন্ডি এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়েছিল। নির্যাতনের পর তিনজনই গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

Advertisement

‘কারফিউ জারির আগে পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহানগরের বিভিন্ন এলাকা আন্দোলনে উত্তাল ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা পিছু হটেননি। তবে ২৬ জুলাই কারফিউ থাকায় মাঠের কর্মসূচি সম্ভব হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে ওঠে আন্দোলনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।’

রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেন, তিন সমন্বয়ক নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, তাই তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদিনও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোটা আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান।

জাতীয় পর্যায়ে যখন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একের পর এক চাপে ফেলা হচ্ছিল, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তার এক নতুন পরিস্থিতি। ২৫ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একাংশ সমন্বয়কারী সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তারা সরকারের প্রজ্ঞাপন, আট দফা দাবির আংশিক অগ্রগতি এবং আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু এই ঘোষণা কেন্দ্রীয় আন্দোলনের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে- আন্দোলন আদৌ শেষ হয়েছে, নাকি চলছে।

এদিকে ২৬ জুলাই রাজশাহীতে কারফিউ চলমান থাকায় মাঠে নেমে কর্মসূচি পালন সম্ভব হয়নি। মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। তবে তার আগ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছিল তুমুল। আন্দোলন দমাতে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। অনেক আন্দোলনকারীকে আটকের চেষ্টা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সমর্থক কয়েকজন শিক্ষক বারবার থানায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে আনেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থানায় অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে শিক্ষকদের এই ভূমিকা সে সময় রাজশাহীর আন্দোলনে বড় সাহস জুগিয়েছিল। কারফিউর কারণে রাজপথে কর্মসূচি স্থগিত থাকলেও আন্দোলনের যোগাযোগ ও সমন্বয় তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।

‘২৬ জুলাই আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ২৫ জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা চারজন সমন্বয়ক কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েছিল। তখন ২৬ জুলাই সকালে আমি ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখনো আন্দোলন থেকে সরে আসেনি’ শিরোনামে ফেসবুকে পোস্ট করি।’

এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই ২৬ জুলাই সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় বার্তা দেন- ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখনো আন্দোলন থেকে সরে আসেনি।’

এই একটি পোস্ট মুহূর্তেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সম্মেলনের পর যে হতাশা, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতিতে এই পোস্ট নতুন করে আস্থা ও সাহস জোগায়। অনেক শিক্ষার্থী বুঝতে পারেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও আন্দোলনের সঙ্গেই রয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা এবং নতুন উদ্যমে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখনো আন্দোলন থেকে সরে আসেনি। যারা প্রেস ব্রিফিং করেছেন তারা আগে থেকেই পদত্যাগ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমন্বয়ক না থাকায় এ নিয়ে দুইবার সাজানো নাটক দেখানো হলো জাতিকে। তাই আমি বৃহৎ আন্দোলনের প্রয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ ঘোষণা করছি। আমি যদি প্রেস ব্রিফিং করি বা ঘোষণা দেই তাহলে সবাই বুঝবেন যে এটাই সত্য। ৫২ সদস্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সঙ্গে কথা বলে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি আপনারা আর ভুল তথ্য পাবেন না। শুরু থেকেই আন্দোলনে ছিলাম এবং শেষপর্যন্ত থাকবো। কেন্দ্রের সমন্বয়করা যখন আন্দোলনের শেষ ঘোষণা করবেন তখন আমরা রাবিয়ানরাও শেষ ঘোষণা করবো।

আরও পড়ুন ফিরে দেখা ২৫ জুলাই / ঢাকায় আন্দোলন চলমান, রাবিতে প্রত্যাহার

সংবাদ সম্মেলন নিয়ে এই সমন্বয়ক আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে তারা (সংবাদ সম্মেলন করা পাঁচজন সমন্বয়ক) যোগাযোগ করেননি। আর খুব সম্ভবত তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তারা আসলে আন্দোলনে যে হামলা-মামলা হুমকি এগুলো হবে বুঝলে হয়তো আন্দোলনে আসত না। একটা হুমকিতে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী (বর্তমান) আর সাবেক লাখ লাখ শিক্ষার্থীর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনই নেতৃত্বের গুণাবলি হতে পারে না।

সমন্বয়ক সালাউদ্দিন ফেসবুকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা বাংলাদেশে যখন শুরু হয় তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটিতে যারা ছিলেন নেতৃত্বহীনতার কারণে স্বেচ্ছায় বা জোরজবরদস্তি করে তাদের পদত্যাগ করানো হয়। পরবর্তীতে আর কোনো সমন্বয়ক কমিটি হয়নি। সমন্বয়ক কমিটি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা আন্দোলনটি পরিচালিত হচ্ছিল, যার ফলশ্রুতিতে পর পর দুইবার মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন মানুষ এসে নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে এই আন্দোলনকে থামানোর চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন ফিরে দেখা ২৩ জুলাই / অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের মামলা

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদ সম্মেলনের পর জরুরিভিত্তিতে আমরা একটা সমাধানের প্রয়োজন বোধ করি। সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শিক্ষার্থীসহ অনেকে উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করছিলেন, তখন জরুরিভিত্তিতে ফেসবুকে আমি পোস্ট করি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ৫২ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, রাবিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার আগপর্যন্ত আমি সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছি এবং কেন্দ্র থেকে যে আপডেট আসবে সেটা আমি রাবিতে সমন্বয় করব।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ২৬ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ২৬ জুলাই আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ২৫ জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা চারজন সমন্বয়ক কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েছিল। তখন ২৬ জুলাই সকালে আমি ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখনো আন্দোলন থেকে সরে আসেনি’ শিরোনামে ফেসবুকে পোস্ট করি।

আরও পড়ুন ফিরে দেখা ২২ জুলাই / মেসগুলোতে চিরুনি অভিযান, আতঙ্কে রাত কাটান শিক্ষার্থীরা

তিনি বলেন, পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আবার সাড়া দিতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে আন্দোলন শেষ হয়নি। নতুন করে সাহস ফিরে আসে এবং সবাই আবার আন্দোলনের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত হয়। সেই সময় এখনকার মতো পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ছিল না। ছাত্র প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য একটি কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, কারফিউ জারির আগে পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহানগরের বিভিন্ন এলাকা আন্দোলনে উত্তাল ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা পিছু হটেননি। তবে ২৬ জুলাই কারফিউ থাকায় মাঠের কর্মসূচি সম্ভব হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে ওঠে আন্দোলনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। আর সেই বাস্তবতায় তার একটি ফেসবুক পোস্টই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে নতুন করে সংগঠিত করে, বিভ্রান্তি দূর করে এবং কেন্দ্রীয় আন্দোলনের সঙ্গে রাজশাহীর সংযোগ অটুট রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সব মিলিয়ে ২৬ জুলাই ছিল জুলাই আন্দোলনের এমন এক দিন, যখন রাজপথে কারফিউ থাকলেও আন্দোলনের গতি থেমে যায়নি। একদিকে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া, অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি আন্দোলনকে নতুন সংকটে ফেলে। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘আন্দোলন এখনো চলমান’-এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরে আসে।

এনএইচআর/জেআইএম