ক্যাম্পাস

শেকৃবির নবীনবরণ বর্জন ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন (নবীনবরণ) অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বর্জন করেন তারা।

Advertisement

রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েও বক্তব্যের সুযোগ না পাওয়ায় তার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা টিএসসি ত‍্যাগ করেন 

অনুষ্ঠান বর্জনের সময় ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা প্রশ্ন তোলেন, বক্তব্য প্রদানকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কি না? তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা প্রায় ২১ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারা আরও বলেন, এতদিন ক্যাম্পাসে যে সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা নষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন সরকারের পাঁচ মাসেই নানা কথা শুরু হয়েছে, সুযোগ হারানো যাবে না: ফখরুল

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আগের কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সব ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই। 

আরও পড়ুন ৪৭তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে শেকৃবির ১৩ শিক্ষার্থীকে সুপারিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, এদেশে জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাইরে কাউকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থান দেওয়া হতো না, আজও একই ধরনের চিত্র দেখলাম। শুধুমাত্র ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারোই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি। 

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আরফান আলী বলেন, আজ চারজন ডিন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সদস্য এবং বাইরের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা উপস্থিত থাকায় সময় সংকুলান হয়নি। সবাইকে সুযোগ দিতে পারলে ভালো হতো। ভবিষ্যতে বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করবো। তবে এত বড় আয়োজনে শিক্ষার্থীদের এভাবে অনুষ্ঠান বর্জন করা ঠিক হয়নি। পরবর্তী সব অনুষ্ঠান আমরা সবাইকে নিয়ে করার চেষ্টা করব।

Advertisement

এমডিএসএ/এমএমকে