প্রবাস

এক সপ্তাহে গ্রিসের ক্রিট উপকূলে ৪১৯ অভিবাসী উদ্ধার

চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ৪১৯ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাদের কেউ সমুদ্র থেকে উদ্ধার হয়েছেন, আবার কেউ উপকূলে পৌঁছানোর পর আটক হয়েছেন।

Advertisement

গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অনেক অভিবাসীরা জানিয়েছেন, তারা পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা করেছিলেন।

সোমবার (২০ জুলাই) থেকে সপ্তাহের সবদিনই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনী। সমুদ্র এবং উপকূলজুড়ে সোমবার থেকে মোট ৪১৯ জন অভিবাসীকে আটক বা উদ্ধার করা হয়েছে।

সবশেষ শুক্রবার (২৪ জুলাই) ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ৪২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানে ফ্রন্টেক্সের জাহাজের পাশাপাশি ওই এলাকায় চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজও অংশ নেয়।

Advertisement

আরও পড়ুন প্রতিদিনের ছোট অভ্যাস যেভাবে বদলে দিয়েছে জীবন

এর আগের দিন গ্রিক উপকূল পুলিশ ৫২ জন বিদেশিকে (৪৯ জন পুরুষ ও তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক) উদ্ধার করে আগিয়া গালিনি বন্দরে নিয়ে যায়। বুধবার আরও ৪২ জনকে ইউরোপ ও লিবিয়ার মধ্যবর্তী সমুদ্র এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার তিনটি নৌকায় থাকা ১৩০ জন অভিবাসীকেও সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। একই দিন ক্রিট উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়া আরও ৩৭ জন অভিবাসীকেও আটক করে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। সোমবার একই দ্বীপে পৌঁছানোর পর আরও ১১৮ জনকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, গ্রিসে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে তাদের লিবিয়ার তোবরুক থেকে যাত্রা করানো হয়েছিল।

পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক থেকে গ্রিসের ক্রিটমুখী এই অভিবাসনপথ গত বছর উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

Advertisement

২০২৫ সালে ক্রিট এবং পাশের ছোট দ্বীপ গাভদোসে প্রায় ২০ হাজার অভিবাসী পৌঁছান। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরে আগমন বেড়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি।

২০২৬ সালেও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ক্রিটে নয় হাজারের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় একই রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারির শুরুতে গ্রিক সরকার ক্রিট দ্বীপে তিনটি নতুন অভ্যর্থনা কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দেয়। এর একটি নির্মাণ করা হবে হেরাক্লিয়নের শিল্প এলাকায় এবং আরেকটি খোলা হবে খানিয়ার পুরোনো প্রদর্শনী কেন্দ্রে, যা ইতোমধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অভিবাসীদের আগমনের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হওয়া এই দুটি অস্থায়ী কেন্দ্র আগামী বসন্তের মধ্যে চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী। এছাড়া তৃতীয় একটি স্থায়ী কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, তবে এর অবস্থান এখনও জানানো হয়নি।

এই অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন গ্রিক পার্লামেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নতুন আইনের অনুমোদন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১২ জুন থেকে এই চুক্তি কার্যকর হয়েছে।

নতুন আইনে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, আশ্রয়ের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া নতুন আইনের আওতায় গ্রিসে নতুন আসা ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর মধ্যে থাকবে পরিচয় যাচাই, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, নতুন ইউরোপীয় আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে গ্রিস উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নতুন জাতীয় আইন প্রণয়ন, কার্যকরী নির্দেশিকা প্রকাশ, জনবল প্রশিক্ষণ এবং প্রথম অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতির জন্য দেশটির প্রশংসা করেছে কমিশন।

প্রতিবেদনে ক্রিটে অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চুক্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলতে আশ্রয়প্রার্থীদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের জন্য গ্রিস যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও প্রতিবেদনে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

এমআরএম