ভারতের বিহারে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুলাই ‘বিহার বন্ধ’ ডাকা হয়েছিল। এই আন্দোলন চলাকালে এক পুলিশ সদস্য একে-৪৭ রাইফেলের মতো প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের দিকে সরাসরি গুলি চালান। সেই ঘটনার ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ নিয়ে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশটিতে, মুখ খুলেছেন রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা।
Advertisement
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অভিষেক প্যাটেল নামে ওই কনস্টেবল নীল রঙের হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আন্দোলনকারীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটিতে অন্তত এক রাউন্ড গুলি ছোড়ার দৃশ্য ধরা পড়লেও সূত্র জানিয়েছে, ওই পুলিশ সদস্য অন্তত চার-পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন ‘পোস্ট ডিলিট করো, সমস্যা হবে’ এবার ভারতে!ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও করেছেন রাজ্যসভার সদস্য মনোজ কুমার ঝা।
देखिए कैसे बिहार में छात्र प्रदर्शनकारियों पर पुलिसकर्मी AK-47 से गोली चला रहा है? संपूर्ण देश में किसी भी छात्र प्रदर्शन में Police Manual का उल्लंघन कर AK-47 से गोली चलाने का यह प्रथम मामला है।लोकतंत्र में शांतिपूर्ण प्रदर्शन करना नागरिकों का संवैधानिक अधिकार है। अगर यही… pic.twitter.com/fEmJXK8CjQ
Advertisement
সিওয়ানের গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত তিন বিক্ষোভকারীকে পাটনার জয়প্রভা মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন মোদীবিরোধী পোস্টদাতাদের বিরুদ্ধে চড়াও ভারতের পুলিশআহতদের মধ্যে মো. আরিফ নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। সে একটি দোকানে কাজ করে। পরিবারের দাবি, বন্ধের দিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তার ঘাড়ে গুলি লাগে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি বের করা হয়।
ভারতজুড়ে নিন্দার ঝড়এই ঘটনায় ভারতজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবি করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পুলিশ সদস্যের গুলি চালানোর একটি ভিডিও ক্লিপও শেয়ার করেন।
আরও পড়ুন ভারতে এবার সরকার পতনের ডাক রাহুল গান্ধীরলোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লির আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেটগান এবং বিহারে একে-৪৭ ব্যবহার করার মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। সবখানে একই কায়দায় দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Advertisement
এ ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশের নিজস্ব নিয়ম ও প্রটোকল সঠিকভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা এই তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেকেএএ/