রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
Advertisement
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
গত বছরের ১৮ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপেক্ষা করে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
Advertisement
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঠিকাদারের চলতি বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানত (সিকিউরিটি মানি) ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ করার পর সেই অর্থ ঠিকাদারকে ঋণ হিসেবে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দিয়ে জামিনদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে সরকারের প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল দেওয়া হয়। সেই অগ্রিম বিল সমন্বয়ের আগেই বিলের বিপরীতে জমা দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টিও অবমুক্ত করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নকশা অনুসরণ না করে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবে বেশি দর বা ফ্রন্ট লোডিং থাকা সত্ত্বেও সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০০৮) অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন করা হয়নি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বেরোবির সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু ও এম এম হাবিবুর রহমান।
Advertisement
এমডিএএ/একিউএফ