খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা কোচকে ‘মিথ্যাবাদী’ বললেন স্পেনের দানি ওলমো

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর ফাইনালের উত্তপ্ত ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এবার আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার ক্ষমা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো।

Advertisement

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ওলমোর গলার দিকে জোরে হাত ঠেলে দেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে আয়ালা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও দাবি করেন, এটি ছিল ওলমোর একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া।

তবে কাতালান সংবাদপত্র দিয়ারি দে তেরাসা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়ালার বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ওলমো। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ক্ষমা চেয়ে আবার বলে যে এটি আমার কথার প্রতিক্রিয়া ছিল, সে আসলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত নয়। কারণ সে মিথ্যা বলছে। আমি তাকে কিছুই বলিনি, তাই তার এমন ব্যাখ্যা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে সংজ্ঞায়িত করে তার ভুল নয়, বরং সেই ভুলকে বিনয়ের সঙ্গে, সততার সঙ্গে এবং মর্যাদার সঙ্গে স্বীকার করার সাহস।’

Advertisement

ওলমোর মতে, ফুটবলাররা শুধু খেলোয়াড় নন, নতুন প্রজন্মের জন্যও আদর্শ। ‘আমার সন্তান, পরিবার এবং সমর্থকেরা যখন ম্যাচটি দেখবে, তখন আমি চাই তারা আমাদের লড়াই, জয়ের পাশাপাশি আমাদের আচরণ নিয়েও গর্ব করুক। ফুটবলের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে আমরা শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ। তাই আমাদের দায়িত্বও অনেক বড়’-যোগ করেন তিনি।

বুধবার ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ আয়ালা বলেন, ‘অবশ্যই আমি দুঃখিত। আমার অবস্থানে থেকে কোনো অনুভূতি বা প্রতিপক্ষের আচরণ আমার সিদ্ধান্ত বা ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে না।’

তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা গুরুতর ছিল না।

আয়ার বলেন, ‘ওটা ঘুষি ছিল না, বরং একটি ধাক্কা ছিল। এটা তার একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া ছিল। যদি আবার তার সঙ্গে দেখা হয়, আমি অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইব।’

Advertisement

গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ঘটনার পর পুরো বিষয়টি তদন্তে নেমেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতোমধ্যে ফাইনাল-পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

এমএমআর