চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
Advertisement
বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এ তথ্য জানিয়েছে।
বেজা জানায়, প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, আধুনিক শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
Advertisement
নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান।
অনুষ্ঠানে কয়েকটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিনিয়োগই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের অগ্রগতি সরকারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি সরকারের বার্তা স্পষ্ট- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। এই প্রকল্প শুধু নির্মাণকাজের সূচনা নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি নতুন ভিত্তি।
Advertisement
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এই জোনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়া দুই দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি এটিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফল বাস্তবায়নের অংশ বলেও উল্লেখ করেন।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগলেও আগামী তিন মাসের মধ্যে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে।
বেজা জানায়, গত ১৭ জুন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ও ভূমি ইজারা চুক্তি অনুমোদন করেছে। কোম্পানিটিতে বেজার অংশীদারত্ব ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের অংশীদারত্ব ৭০ শতাংশ।
এদিকে, সিইআইজেডে আন্তর্জাতিক মানের শিল্প পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বহুমুখী জেটি, চার লেনের সড়ক, জেটি লিংক রোড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস সংযোগ, পানি সংরক্ষণাগার, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সাবস্টেশনসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বৈদেশিক ঋণের অর্থ চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বেজার মতে, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও লজিস্টিক হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসএম/একিউএফ