তথ্যপ্রযুক্তি

অনলাইনে ব্যবসা করতে লাগবে সরকারি ‘ডিবিআইডি নম্বর’, আবেদন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকার ডিবিআইডি বা ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর চালু করেছে। এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনলাইন ও ই-কমার্স ব্যবসার জন্য প্রদান করা একটি সরকারি স্বীকৃতি ও স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর। যারা ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রি করেন, তাদের জন্য ডিবিআইডি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে।

Advertisement

ডিবিআইডি-এর পূর্ণরূপ কী?

ডিবিআইডি (DBID) -এর পূর্ণরূপ হলো ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর। এটি এমন একটি ইউনিক নম্বর, যা একটি অনলাইন ব্যবসাকে সরকারি নিবন্ধিত পরিচয় প্রদান করে এবং সেই ব্যবসার বৈধতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

ডিবিআইডি কেন প্রয়োজন?

বর্তমান সময়ে অনলাইন ব্যবসার সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে। এই সমস্যা কমাতে এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিবিআইডি চালু করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ডিবিআইডি ছাড়া ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

এছাড়া ডিবিআইডি থাকার ফলে ব্যবসা সরকারি স্বীকৃতি পায়, ফলে ক্রেতাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা অনলাইন লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

Advertisement

আরও পড়ুন জেমিনিকে চিপেই বসাতে চায় গুগল, এআইয়ের ভবিষ্যৎ কী ঝুঁকিতে? ডিবিআইডি করতে কি টিন বা ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক?

এটি অনেকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উত্তর হলো, না। বর্তমান সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স, টিন, ভ্যাট বা কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন থাকলে সেগুলো জমা দেওয়া যাবে, তবে এগুলো বাধ্যতামূলক নয়। আবেদন ফরমে স্পষ্টভাবে যদি থাকে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এসব নথি ছাড়াই ডিবিআইডি-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে ব্যবসা বড় পরিসরে পরিচালনা করতে বা অন্যান্য সরকারি ও আর্থিক সেবা নিতে ট্রেড লাইসেন্স ও টিন সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

কারা ডিবিআইডি পেতে পারবেন?

যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ডিবিআইডি-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, ফেসবুক পেজ, ই-কমার্স ওয়েবসাইট কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার আগে যা লাগবে

ডিবিআইডি-এর জন্য আবেদন করার আগে আপনার ব্যবসার ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে বাংলায় স্পষ্টভাবে নিচের তথ্যগুলো থাকতে হবে-

রিটার্ন পলিসি প্রাইভেসি পলিসি টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ডেলিভারির সময়সীমা পণ্য ফেরত ও মূল্য ফেরতের নীতিমালা বিক্রয়োত্তর সেবার তথ্য এসব তথ্য বাংলায় প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কীভাবে ডিবিআইডি-এর জন্য আবেদন করবেন?

প্রথমে সরকারি ডিবিআইডি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর এনআইডি বা জাতীয় পরিচয় পত্র-সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি, স্বাক্ষর এবং ব্যবসার ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করে আবেদন জমা দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই শেষে অনুমোদন পেলে ডিবিআইডি নম্বর প্রদান করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদন নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময় ৬০ কার্যদিবস এবং এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

Advertisement

আরও পড়ুন ঘরে বসেই বিদেশে থাকা প্রিয়জনের জন্য খাবার অর্ডার করবেন যেভাবে ডিবিআইডি-এর সুবিধা

ডিবিআইডি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে, ফলে গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ডিজিটাল বিজ্ঞাপন চালানোর ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করা সহজ হয়। ভবিষ্যতে অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন সরকারি সেবা ও নীতিগত সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ডিবিআইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মূলত বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবসার ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সংগঠিত করতে ডিবিআইডি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। যারা নিয়মিত ফেসবুক, গুগল বা ইউটিউবের মাধ্যমে ব্যবসার প্রচারণা চালান অথবা ই-কমার্স পরিচালনা করেন, তাদের জন্য দ্রুত ডিবিআইডি সংগ্রহ করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ক্রেতাদের কাছেও ব্যবসার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

কেএসকে