বর্তমানে কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু স্মার্টফোন। ফলে দিনের বড় একটি সময় কেটে যায় ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেকের চোখ জ্বালা করা, শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, এমনকি মাথাব্যথা বা ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
Advertisement
রাতের দিকে ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্লান্তি বাড়াতে পারে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্ধ্যার পর ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড চালু রাখুন। এতে স্ক্রিনের রং কিছুটা উষ্ণ হবে, যা দীর্ঘ সময় ব্যবহারেও তুলনামূলক আরাম দেয়।
আরও পড়ুন ডুমস্ক্রোলিংয়ের ফাঁদে আটকে যাচ্ছেন না তো? আসক্তি কমাবেন যেভাবে ২. ডার্ক মোড ব্যবহার করুনকম আলোযুক্ত পরিবেশে উজ্জ্বল সাদা স্ক্রিন চোখের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডার্ক মোড চালু করলে স্ক্রিনের ঝলকানি কমে এবং চোখের ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পায়। বিশেষ করে রাতে পড়াশোনা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় এটি বেশ কার্যকর।
৩. অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস চালু করুনঅনেকেই সব সময় একই মাত্রার ব্রাইটনেস ব্যবহার করেন, যা সব পরিবেশে উপযুক্ত নয়। অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস চালু থাকলে আশপাশের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে ফোন নিজেই স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমন্বয় করে। এতে অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা অতিরিক্ত ম্লান স্ক্রিনের কারণে চোখের অস্বস্তি কম হয়।
Advertisement
খুব ছোট লেখা পড়তে গেলে চোখকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফন্ট সাইজ এবং ডিসপ্লে সাইজ কিছুটা বড় করে নিন। এতে লেখা পড়া সহজ হবে এবং দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করলেও চোখ দ্রুত ক্লান্ত হবে না।
৫. স্ক্রিন টাইমআউট-এর সময় কমিয়ে রাখুনফোন ব্যবহার না করলেও অনেক সময় স্ক্রিন দীর্ঘক্ষণ চালু থাকে। স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পর স্ক্রিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমবে, ব্যাটারি সাশ্রয় হবে এবং চোখও কিছুটা বিশ্রাম পাবে।
আরও পড়ুন প্রযুক্তির অদৃশ্য ফাঁদ: সুবিধা নাকি পরাধীনতা? শুধু সেটিংস বদলালেই হবে নাচোখ সুস্থ রাখতে ফোন ব্যবহারের মাঝেও নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোতে ফোন ব্যবহার করুন এবং ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে না তাকানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোট ছোট এসব পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে আপনার চোখকে আরও আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করবে।
কেএসকে
Advertisement