দেশজুড়ে

খাল পুনর্খনন শেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত গেল ৬৮ লাখ টাকা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ফুলবাড়ীয়ায় খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় এ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Advertisement

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ও কাঁঠাল ইউনিয়নের ধরার খাল পুনর্খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ঠনিভাঙ্গা বিল থেকে বোকা বিল পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ খাল পুনর্খননের জন্য ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খালটি ১০ ফুট গভীর এবং ১৫ থেকে ২৩ ফুট প্রশস্ত করে খনন করা হয়। খনন শেষে বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা খালের পাড় সংস্কার করতে হয়। পাশাপাশি খালের দুই তীরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭০ টাকা। ফলে অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারি অর্থের অপচয় রোধে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সেই প্রচেষ্টার ফলেই খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য সন্তোষজনক।’

Advertisement

অন্যদিকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দবরদোস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পেও বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় হয়নি। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনর্খননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করায় বরাদ্দের একটি অংশ সাশ্রয় হয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলাতেই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।

Advertisement

হোসাইন সুলভ/কেজে/এএসএম