সালাহউদ্দিন আহমেদ, কোরিয়া
Advertisement
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা থেকে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। বাংলাদেশ থেকে অবকাঠামো প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছি।
আমাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে দেশীয় সীমানা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রবাসে যাওয়ার। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই বুঝতে পারেন না ঠিক কোথা থেকে বা কীভাবে প্রথম পদক্ষেপটি নেবেন। মূলত আপনাদের উৎসাহিত করতেই আমার এই লেখাটুকু।
আরও পড়ুন কোম্পানি ঘুরছে কর্মীর পেছনে!প্রবাসে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা যাদের রয়েছে, তাদের জন্য আমার মূল পর্যবেক্ষণ ও কিছু পরামর্শ
Advertisement
একাডেমিক ফলাফল অক্ষুণ্ণ রাখা: যে বিষয়েই পড়ুন না কেন, চেষ্টা করুন প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল যেন ভালো থাকে। একটি ভালো ফলাফল বিভিন্ন বৃত্তি ও অর্থায়নের সুযোগ অনেকটাই সহজ করে দেয়।
লক্ষ্য ও দেশ নির্বাচন: কোন দেশে যেতে চান, শুরুতেই তা সুনির্দিষ্ট করুন। নিজের বাজেট, শিক্ষার গুণগত মান, অর্থায়নের সুযোগ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে দেশ নির্বাচন করা উচিত।
ভাষা দক্ষতার প্রস্তুতি: প্রয়োজনীয় ভাষা বা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষার (যেমন: কোরীয়, জার্মান ইত্যাদি) প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করুন। ইন্টারনেট ও বিনামূল্যে পাওয়া বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করা সম্ভব।
বাস্তব দক্ষতা অর্জন: কেবল সনদের ওপর ভরসা না করে কোনো নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা অর্জন করুন। প্রবাসে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো কাজ পেতে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।
Advertisement
দস্তাবেজ সঠিক রাখা: প্রাতিষ্ঠানিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মা-বাবার পরিচয়পত্রের তথ্য বা নামের বানানে কোনো গরমিল থাকলে তা এখনই সংশোধন করে নিন। সব কাগজের তথ্য হুবহু এক থাকা জরুরি।
পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখা: বিদেশে যে কোনো আবেদনের প্রথম শর্ত হলো পাসপোর্ট। এখনো না বানিয়ে থাকলে সুবিধামতো সময়ে আগেই এটি তৈরি করে রাখুন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্যেষ্ঠদের সাথে যোগাযোগ: পছন্দের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের বৃত্তির নিয়মাবলী নিয়ে বিষদ অনুসন্ধান করুন। সেখানে অধ্যায়নরত জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
উদ্দেশ্যপত্র ও জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তুতি: বিদেশে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের লক্ষ্য সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে একটি শক্তিশালী উদ্দেশ্যপত্র এবং আন্তর্জাতিক মানের জীবনবৃত্তান্ত আগে থেকেই তৈরি রাখা উচিত।
শিক্ষকদের সুপারিশপত্র সংগ্রহ: স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, যেন আবেদনের সময় জোরালো সুপারিশপত্র পাওয়া সহজ হয়।
অধ্যাপকদের সাথে যোগাযোগ: বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভালো বৃত্তি বা গবেষণা সংস্থানের জন্য আবেদনের আগেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সাথে নিয়মমাফিকভাবে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কার্যকর।
সঠিক সময়ে কাজ শুরু করা: একদম শেষ পর্বের জন্য অপেক্ষা না করে, স্নাতক শেষ হওয়ার অন্তত এক বছর আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেকে এভাবে গুছিয়ে নিলে পথচলা অনেক সহজ হয়ে যায়। সঠিক দিকনির্দেশনা ও ধৈর্য নিয়ে এগোলে স্বপ্ন পূরণ হবেই, ইনশাআল্লাহ।
প্রবাসে উচ্চশিক্ষা বা আবেদন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করতে পারেন। সবার জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা!
এমআরএম