ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন হতে পারে চলতি বছরের শেষে। এ টার্মিনাল ঘিরে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণে প্রস্তুতি নিচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো। বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও ফ্লাইট বাড়াবে। প্রতিযোগিতা বাড়লে কমবে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ভাড়া।
Advertisement
এমনটাই মনে করছেন অ্যাভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ঢাকা ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে।
খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ার- এই চারটি দেশীয় এয়ারলাইন্স রয়েছে। তারা ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের সম্মিলিত বহর ৫১টি থেকে বাড়িয়ে ৯১টিতে উন্নীত করবে। এ সম্প্রসারণ বাস্তবায়নে তারা নতুন করে আরও ৪০টি উড়োজাহাজ কেনা এবং লিজ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন বেবিচক চেয়ারম্যান / শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর ডেডলাইন ১৬ ডিসেম্বরঅন্যদিকে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্সও কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। ফ্লাইট বাড়লে প্রতিযোগিতা বাড়বে। যার সুফল পাবেন যাত্রীরা। কারণ প্রতিযোগিতার কারণে ভাড়াও কমে আসবে।
Advertisement
বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর দিনে দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এ বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ এর বার্ষিক ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ যাত্রী। তবে ২০২৫ সালে এ দুটি টার্মিনাল ব্যবহার করেছেন প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রী। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ১ কোটি ১৭ লাখ।
সরকার চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় পাঁচ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা যুক্ত হবে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
এআই নির্মিত ছবিবেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে। এ টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কোম্পানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর জানা যাবে পরবর্তী তারিখ।
তিনি জানান, টার্মিনালের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হবে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরে যাত্রী সেবা ও আকাশপথে বাণিজ্য কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আসবে।
Advertisement
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এখন ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে বহর ২৯টিতে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি।
এরই মধ্যে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্রাই লিজে নেওয়ার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে বিমানের।
এর বাইরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে এবার এয়ারবাস। তাদের প্রস্তাব ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিমান।
আরও পড়ুন বাণিজ্য বাড়াবে ঢাকা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালবিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানের বহরে যুক্ত হবে দুটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং আটটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ উড়োজাহাজ। এয়ারবাস থেকে কয়টি বিমান লিজ নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন সহজ হবে।-বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম
বিমানের বিদ্যমান ১০টি উড়োজাহাজ দিয়ে বিশ্বের ২২টি দেশের ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে লন্ডন, টরন্টো, রোম, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, দুবাই, আবুধাবি, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা, কাঠমান্ডু ও মাসকাট। তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর ফ্লাইট সংখ্যা ও আন্তর্জাতিক গন্তব্য আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল/ফাইল ছবিজানতে চাইলে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন সহজ হবে।’
তিনি বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বাড়তি যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা কাজে লাগাতে বহর সম্প্রসারণ অপরিহার্য। সে লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি লিজ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ ইউএস-বাংলারদেশের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা। এখন ইউএস-বাংলার বহরে তিনটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ মোট ২৫টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের যত সুবিধাইউএস-বাংলা জানায়, শিগগির ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বহরকে আরও সমৃদ্ধ করতে ২০২৭ সালের মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন যোগ করতে যাচ্ছে। এছাড়া চলতি বছর নেপালের কাঠমান্ডুতে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা।
এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ইউএস-বাংলা ২০২৭ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কলম্বো, মালয়েশিয়ার জহুরবারুহ, পেনাং, হংকং রুটে ফ্লাইট শুরুর প্রত্যাশা করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্য ও ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক ও টরন্টো এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা দিতে আধুনিক এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই।-ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা দিতে আধুনিক এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজগুলোর গড় বয়স ১০ বছর, যা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স বা এমিরেটসের মতো বিশ্বমানের এয়ারলাইন্সের সমতুল্য। যাত্রীদের এই ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি যে বাংলাদেশি এয়ারক্রাফট মানেই পুরাতন না।’
আগামী বছর থেকে যুক্ত হতে যাওয়া উড়োজাহাজগুলোতে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং ও ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা থাকবে, যেখানে অন্য ক্যারিয়ার টাকা নেয়, ইউএস-বাংলা তা ফ্রিতে দেবে। এছাড়া প্রতিটি সিটে মোবাইল চার্জিং সিস্টেমের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান মামুন।
আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলছে এয়ার অ্যাস্ট্রাইউএস-বাংলা গ্রুপের অধীনে আরেকটি এয়ারলাইন্স এয়ার অ্যাস্ট্রা। তাদের বহরে বর্তমানে পাঁচটি এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। সবগুলো উড়োজাহাজই ফ্রান্সের তৈরি এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ। এই মডেলের প্রতিটি উড়োজাহাজে সাধারণত প্রায় ৭০ থেকে ৭২ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুন হাজার কোটি টাকার ‘গরমিলে’ খুলছে না শাহজালালের নতুন কার্গো ভিলেজএয়ার অ্যাস্ট্রা মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে এসব উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে তাদের ফ্লাইট রয়েছে। ভবিষ্যতে এয়ার অ্যাস্ট্রা বহর বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করবে। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করে প্রথমবারের মতো ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে এয়ার অ্যাস্ট্রার বহর বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। তখন অভ্যন্তরীণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়াল দেবে এয়ার অ্যাস্ট্রা।’
সম্প্রসারণে ফিরছে নভোএয়ারওদীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর নভোএয়ারও আবার বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুটি এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি আরও একটি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর জন্য বোয়িং এবং এয়ারবাসের উড়োজাহাজ মূল্যায়ন করছে।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে বাজারশাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৮টি বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের প্রায় ৬৫ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করে এই বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব আরও বাড়াতে চায়।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল/ফাইল ছবিএর মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ এয়ার, চীনের চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স, মালয়েশিয়ার বাটিক এয়ার, নেপালের হিমালয়া এয়ারলাইন্স এবং মধ্য এশিয়ার কয়েকটি ক্যারিয়ার বাংলাদেশে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা যাচাই করছে।
পাশাপাশি বিদ্যমান বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অনেকেই ঢাকা থেকে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে দেশের প্রথম চলন্ত ওয়াকওয়েসব শেষ কয়েক মাস আগে বেবিচক থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইন্স ‘রিয়াদ এয়ার’। আগামী ৮ আগস্ট সৌদি আরব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে রিয়াদ এয়ারের জেনারেল সেলস এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে রিদম গ্রুপ। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার। তাই যাত্রীসেবা আরও আধুনিক, স্বাচ্ছন্দ্য, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত নিশ্চিত করবো।’
প্রতিযোগিতা বাড়লে কমবে ভাড়াদেশে নতুন এয়ারলাইন্স বাজারে আসা অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সিট ক্যাপাসিটি কম থাকায় যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। নতুন এয়ারলাইন্স যুক্ত হলে ক্যাপাসিটি বাড়বে, প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে নতুন এয়ারলাইন্স বাজারে আসা অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সিট ক্যাপাসিটি কম থাকায় যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। নতুন এয়ারলাইন্স যুক্ত হলে ক্যাপাসিটি বাড়বে, প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।’
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর শাহজালালে যাত্রী পরিবহনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সরকারি ট্যাক্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং ফি অনেক বেশি। আবার ডলারের মূল্য বাড়ায় তা যাত্রীদের টিকিটে প্রভাব পড়ছে। সরকারকে এসব দিকে নজর দিতে হবে। তাহলে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের পুরোপুরি সুবিধা সেবা পাবেন যাত্রীরা।’
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে যাত্রী তুলনায় ফ্লাইট কম। এখন তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে ফ্লাইট বেশি চালু হলে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তখন যাত্রী তার পছন্দের ফ্লাইটে বা কমে যে ফ্লাইটের টিকিট পান, সেটিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।’
এমএমএ/এএসএ/এমএফএ