সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নখের জন্য অনেকেই নিয়মিত বিউটি পার্লারে গিয়ে ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর করান। তবে এই সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্লারে ব্যবহৃত ধারালো যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হলে হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। কারণ এই দুই ভাইরাস মূলত সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে যকৃত বা লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
হেপাটাইটিস কী?হেপাটাইটিস হলো যকৃতের প্রদাহ। ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই রোগ দেখা দেয়। হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। চিকিৎসা ছাড়া দীর্ঘদিন থাকলে এটি লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর এমনকি লিভার ক্যানসারের কারণও হতে পারে।
যেভাবে পার্লার থেকে সংক্রমণ হতে পারেম্যানিকিউর বা পেডিকিউরের সময় নখ কাটতে গিয়ে কিংবা কিউটিকল ট্রিম করার সময় অনেক সময় অতি ক্ষুদ্র কাটা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত চোখে না পড়লেও ত্বকে অতি সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হয়। যদি একই কাঁচি, নেল কাটার, কিউটিকল পুশার বা ব্লেড আগে কোনো হেপাটাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং পরে জীবাণুমুক্ত না করেই অন্য কারো ওপর ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই যন্ত্রে লেগে থাকা সংক্রমিত রক্তের অণুকণার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
Advertisement
একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্য একবারই ব্যবহার করা উচিত
হেপাটাইটিস বি নাকি সি-কোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?দুই ধরনের সংক্রমণই গুরুতর হলেও হেপাটাইটিস বি তুলনামূলকভাবে খুব সহজে ছড়ায়। অতি সামান্য পরিমাণ সংক্রমিত রক্তও এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে আশার কথা হলো, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, হেপাটাইটিস সি তুলনামূলকভাবে কম সংক্রামক হলেও এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই প্রতিরোধই একমাত্র নিরাপদ উপায়।
শুধু ম্যানিকিউর নয়, আরও যেসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকেহেপাটাইটিস বি ও সি শুধু পার্লারের ম্যানিকিউর বা পেডিকিউরের মাধ্যমে নয়, ট্যাটু করানো, কান বা নাক ফোঁড়ানো, অপরিষ্কার ব্লেড ব্যবহার কিংবা সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শেও ছড়াতে পারে। তাই যেকোনো ধারালো যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
Advertisement
পার্লারে ব্যবহৃত ব্লেড, নেইল ফাইল বা অন্য ধারালো যন্ত্র নতুন কি না, তা নিজের চোখে দেখে নিন। একবার ব্যবহারযোগ্য যন্ত্র হলে সেটি আপনার সামনেই নতুন প্যাকেট থেকে খুলে ব্যবহার করা উচিত।
যদি স্টিলের কাঁচি, কিউটিকল পুশার বা ধাতব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেগুলো শুধু জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে নয়, অটোক্লেভ মেশিনে স্টেরিলাইজ করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ অটোক্লেভের উচ্চ তাপমাত্রাই ভাইরাস ধ্বংস করতে সবচেয়ে কার্যকর।
এছাড়া বিউটিশিয়ান প্রতিটি নতুন গ্রাহকের জন্য নতুন গ্লাভস ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও লক্ষ্য করা উচিত। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা পার্লার বেছে নেওয়া সবসময় নিরাপদ।
দুর্ঘটনাবশত কেটে গেলে যা করবেনম্যানিকিউর বা পেডিকিউরের সময় যদি রক্তক্ষরণ হয় বা সন্দেহজনক যন্ত্রের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যদি হেপাটাইটিস বি-এর ঝুঁকি থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোস্ট-এক্সপোজার হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন এবং প্রয়োজন হলে হেপাটাইটিস বি ইমিউনোগ্লোবুলিন (এইচবিআইজি) গ্রহণ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন রং ফর্সা করতে ইনজেকশন? আগে জেনে নিন ঝুঁকিঅন্যদিকে, হেপাটাইটিস সি-এর কোনো প্রতিরোধমূলক টিকা না থাকায় দ্রুত রক্ত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন প্রতিদিন একই নাশতা খাওয়ার অভ্যাস, জানুন ভালো নাকি খারাপ সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষাসৌন্দর্যচর্চা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি না করে। পার্লারে যাওয়ার আগে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে নিজের ব্যক্তিগত নেইল কিট ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে হেপাটাইটিস বি ও সি-এর মতো গুরুতর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এসএকেওয়াই