কৃষি ও প্রকৃতি

পাটের ভালো বীজ পেতে হলে যা করবেন

শ্রাবণ মাস হলো বর্ষার সমাপ্তি। শ্রাবণ মাসে সাধারণত নতুন করে পাট চাষ করা হয় না বরং এ সময় মাঠের পরিপক্ব পাট গাছ কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানো হয়। তবে ভালো মানের পাটের বীজ উৎপাদনের জন্য এ মাসে দেশি ও তোষা পাটের বীজ বপন করা যেতে পারে।

Advertisement

ক্ষেতের অর্ধেকের বেশি পাট গাছে ফুল আসলে এ সময় পাট কাটতে হবে। এতে আঁশের মান ভালো হয় এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়। পাট পচানোর জন্য আঁটি বেঁধে পাতা ঝরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জাগ দিতে হবে। এরই মধ্যে পাট পচে গেলে আঁশ ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ভালো করে ধোয়ার পর ৪০ লিটার পানিতে এক কেজি তেঁতুল গুলে তাতে আঁশ ৫-১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে, এতে উজ্জ্বল বর্ণের পাট পাওয়া যায়। যেখানে জাগ দেওয়ার পানির অভাব সেখানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে পারেন। এতে আঁশের মান ভালো হয় এবং পচন সময় কমে যায়।

আরও পড়ুন শ্রাবণ মাসে যেসব শাক-সবজি চাষ করবেন

বন্যার কারণে অনেক সময় সরাসরি পাট গাছ থেকে বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। তাই পাটের ডগা বা কাণ্ড কেটে উঁচু জায়গায় লাগিয়ে তা থেকে খুব সহজেই বীজ উৎপাদন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। শ্রাবণ মাসের প্রথম (মধ্য জুলাই) থেকে ভাদ্র মাসের শেষ (মধ্য সেপ্টেম্বর) সময়ের মধ্যে পাট বীজ বপন করতে হয়।

Advertisement

পাটের ভালো বীজ পেতে হলে দেশি পাট বীজ এ মাসে বপন করতে হবে। সারিতে বপন করলে প্রতি শতাংশ জমিতে ১৬ গ্রাম তোষা এবং ২০ গ্রাম দেশি বীজ বপন করতে হবে। ছিটিয়ে বপন করলে শতাংশে ২০ গ্রাম তোষা এবং ২৪ গ্রাম দেশি পাটের বীজ বপন করতে হবে।

শ্রাবণ মাসে (মধ্য জুলাই) আঁশ ফসলের জমি থেকে সুস্থ ও সবল গাছ যেসব মাতৃগাছে ফুল ধরেনি কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে ফুল আসবে; সেসব গাছের কাণ্ড ও ডগা নির্বাচন করতে হবে। গাছগুলো ধারালো চাকু বা ব্লেডের সাহায্যে তেরচা করে দৈর্ঘ ২০-২৫ সেন্টিমিটার বা ৮-১০ ইঞ্চি কেটে নিতে হবে।

আরও পড়ুন পাটের হলুদ মাকড় দমনে নিম পাতা ও বীজের ব্যবহার

মেঘলা দিনে বা পড়ন্ত রোদে ডগা রোপণ করা উত্তম। ডগা বা কাণ্ড সারি করে রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেন্টিমিটার বা ১ ফুট এবং ডগা থেকে ডগার দূরত্ব ১০ সেন্টিমিটার বা ৪ ইঞ্চি। প্রতিটি ডগার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি পরিমাণ অংশ ৪৫ ডিগ্রি কোণে অর্থাৎ তীর্যকভাবে মাটির নিচে পুতে দিতে হবে।

এসইউ

Advertisement