ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরেই রাশিয়ায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বুধবার (২৯ জুলাই) কিয়েভ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম একটি তেল শোধনাগারে রাতের আঁধারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে মস্কোর ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল কিয়েভ।
Advertisement
ইউক্রেনের সামরিক সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় রাশিয়ার রিয়াজান তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এটি রাশিয়ার বৃহত্তম শোধনাগারগুলোর একটি, যার বার্ষিক তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন।
আরও পড়ুন ইরান-ইউক্রেন-ইসরায়েল-ফিলিস্তিন-সৌদি: সব কি এক সূত্রে বাঁধা?এই শোধনাগার থেকে পেট্রোল, ডিজেল, জেট জ্বালানিসহ নানা পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদিত হয়। ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে এই শোধনাগারটি অবস্থিত।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। তারই অংশ হিসেবে এই নতুন হামলা চালানো হলো। রুশ ভূখণ্ডের গভীরের তেল ডিপো ও শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানতে এখন নিজেদের তৈরি অস্ত্রের ওপর বেশি নির্ভর করছে কিয়েভ।
Advertisement
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক, আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলেনস্কি। বৈঠকের পরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: ‘প্যাট্রিয়ট’ উৎপাদনের লাইসেন্স পেলো ইউক্রেনসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন রাশিয়ার জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে হবে। আগ্রাসীকে দুর্বল করতে এবং যুদ্ধ শেষের পথ ত্বরান্বিত করতে এই চাপ বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিয়াজান অঞ্চলের গভর্নর পাভেল মালকভ জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার পর ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ড্রোন প্রতিহত করার সময় বেশ কিছু শিল্প স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। তবে তিনি সরাসরি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেননি।
সূত্র: এপি, ইউএনবিকেএএ/
Advertisement