দেশজুড়ে

হবিগঞ্জের মানুষ মারলে ধরে নেব এটি আমার কামাই: হাসনাত আবদুল্লাহ

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা একটি গাড়ি নিয়ে পাঁচজন শুধু হবিগঞ্জে যাবো। হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরবো না। আমাকে যদি হবিগঞ্জের মানুষ মারে, তবে আমি ধরে নেব যে, এটি আমার কামাই।’

Advertisement

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এসময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

পুলিশি বাধার একপর্যায়ে এনসিপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন। তখন রাস্তার দুপাশে বিপুল পরিমাণ যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপির নেতাকর্মীদের হবিগঞ্জে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই তাদের মূলত আটকানো হচ্ছে।

Advertisement

আরও পড়ুন ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেও হবিগঞ্জ যাচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন। তারা প্রথম দফায় শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডার পর তারা সেখান থেকে অতিক্রম করেন।

এরপর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় আবারও আটকে দেওয়া হয় এনসিপি নেতাদের। তখন ফের তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডা হয়।

আরও পড়ুন এনসিপির বক্তব্যে ক্ষোভ / কিশোরগঞ্জের সন্তান হিসেবে প্রতিবাদ জানালাম : খায়রুল বাসার

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এনসিপি নেতারা তাতে কোনোভাবেই সায় দিচ্ছেন না। তারা হবিগঞ্জে পৌঁছানোর দাবিতে অনড় রয়েছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তারা গাড়িবহর নিয়ে সার্কিট হাউজে যাচ্ছিলেন। পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। এসময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

Advertisement

আরও পড়ুন এবার হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে বাধা, রাস্তায় বসে পড়লেন নেতারা

পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হন। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকায় ফিরে যান।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়া তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এসআর/জেআইএম