আন্তর্জাতিক

বর্ষার মধ্যে কলকাতায় ‘বসন্ত’ পালন

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক দিন পর কলকাতায় একটি বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

Advertisement

ভারতীয় জাদুঘর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন রাণুচায়া মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; বরং নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সর্বজনীন মিছিল। কর্মসূচির শিরোনাম ছিল, ‘ফুল ফুটুক বা না ফুটুক, আজ বসন্ত’।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমরা করবো জয়’ এবং ‘We Shall Overcome’ গান গেয়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।

মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণরা। এছাড়া শিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন।

Advertisement

আইনের তরুণ শিক্ষার্থী পৃথা চ্যাটার্জী বলেন, বর্ষার মধ্যেই আমরা বসন্ত পালন করছি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আমাদের কাছে নৈতিকতার জয়। যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রমাণ করেছে, ভারতের যুবসমাজ চাইলে শাসককেও নড়িয়ে দিতে পারে। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম ছাত্র আন্দোলনের চাপে একজন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। তাই এই জয় আমরা কলকাতায় মিছিল-উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করছি।

অভিনেতা দেবদূত ঘোষ বলেন, আমরা অকাল বসন্ত পালন করছি। গত কয়েকদিন ধরে সাধারণ মানুষ যেভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে স্পষ্ট এই আন্দোলনের প্রতি মানুষের সমর্থন রয়েছে। এই সাফল্য সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছে, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তাই এই উদযাপন আমাদের কাছে বসন্ত উৎসবের মতোই।

মিছিল শেষে রাণুচায়া মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা শিক্ষার্থী আন্দোলনের গুরুত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে স্লোগান দেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়।

Advertisement

নাগরিক মঞ্চের এই কর্মসূচিতে অভিনেতা চন্দন সেন, ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়, রুমকি চট্টোপাধ্যায়, দেবদূত ঘোষ, শিক্ষাবিদ অম্বিকেশ মহাপাত্র এবং সিপিআই(এম)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ডিডি/এমএসএম