আন্তর্জাতিক

বিশ্বের প্রথম ‘জিরকন’ সাবমেরিন আনছে রাশিয়া, ঝুঁকিতে মার্কিন রণতরি?

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন আনতে যাচ্ছে রাশিয়া। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৩এম২২ জিরকন (3M22 Zircon) হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ পারমাণবিক সাবমেরিন রুশ নৌবহরে যুক্ত হবে।

Advertisement

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জিরকন ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত ইয়াসেন-এম শ্রেণির সাবমেরিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি বহরের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রাশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলেকজান্ডার মোইসেয়েভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন।

তিনি জানান, ইয়াসেন-এম (Yasen-M) শ্রেণির আক্রমণাত্মক পারমাণবিক সাবমেরিন ‘পার্ম’ হবে রুশ নৌবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন যেখানে শুরু থেকেই জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের উপযোগী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে সাবমেরিনটির দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার ক্ষমতা আরও বাড়বে।

Advertisement

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো রুশ নৌবাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয় জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার দাবি, এটি বিশ্বের একমাত্র এ ধরনের হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার। পাশাপাশি এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ৯। এছাড়াও উচ্চ গতিতে কৌশল পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে জিরকন ক্ষেপণাস্ত্রের।

পার্ম হলো ইয়াসেন-এম শ্রেণির ষষ্ঠ সাবমেরিন। এই শ্রেণির আগের পাঁচটি সাবমেরিনেও জিরকন ব্যবহারের জন্য পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে, পার্মকে শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নকশা করা হয়েছে। এ কারণে এর উল্লম্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ পরিচালনা সরঞ্জামে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, প্রায় ১৪ হাজার টন ওজনের প্রতিটি ইয়াসেন-এম শ্রেণির সাবমেরিনে সর্বোচ্চ ৩২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা সম্ভব। রাশিয়া এ ধরনের এক ডজনের বেশি সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে ইয়াসেন-এম শ্রেণির দশম সাবমেরিন ‘মুরমানস্ক’-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াসেন-এম শ্রেণির সাবমেরিনে শব্দ কমানোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রপালশন ব্যবস্থা এবং বিশেষ আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এগুলো বিশ্বের সবচেয়ে নীরব ও শনাক্ত করা কঠিন সাবমেরিনগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।

Advertisement

জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র শুধু শত্রু যুদ্ধজাহাজ নয়, শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতেও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। এর মাধ্যমে কমান্ড সেন্টার, বিমানঘাঁটি, রসদ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালানো সম্ভব হবে। উচ্চ গতি, দীর্ঘ পাল্লা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতার কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার নৌ-যুদ্ধ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

কেএম