দেশজুড়ে

জুমার ইমামতি নিয়ে বিরোধ, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগে মামলা

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতিকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে আহত ছাত্রদল নেতার বাবা বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় এ মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

আসামিরা হলেন, সাঁথিয়া পৌর যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম ফকির, উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফারুক হোসেন ও পৌর এনসিপির সদস্য সচিব মুজাহিদ ফকির সহ জামায়াত-শিবির ও এনসিপি নেতাকর্মীসহ ১৫ জন। অন্যদিকে গুরুতর আহত মো. রাহাত (১৯) সাঁথিয়া পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সাঁথিয়া পৌরসভার ছেঁচানিয়া আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুম্মার নামাজে স্থানীয় ইমামকে বাদ দিয়ে জামায়াত ইসলামী, ছাত্রশিবির ও এনসিপি নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যকে দিয়ে নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দেন। এতে মসজিদ কমিটি ও সাধারণ মুসল্লিরা আপত্তি জানালে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারে সমবেত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশি পাহারায় জুম্মার নামাজ আদায় সম্পন্ন হয়।

Advertisement

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জুম্মার নামাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল নেতা রাহাত নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি সাঁথিয়া পৌরসভাস্থ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় রাজনৈতিক গালিগালাজ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আসামি সাদ্দাম ফকিরের হুকুমে মুজাহিদ ফকির তাকে চেপে ধরেন এবং পিয়াস নামের এক যুবক হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে রাহাতের পিঠে সজোরে কোপ মারেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

আহত রাহাতের বাবা নজরুল ব্যাপারী বলেন, আমার ছেলেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াত, শিবির ও এনসিপির সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে। ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর আনিসুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখমের মত কোনো ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মী জড়িত নয়। মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে রাতেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Advertisement

আলমগীর হোসাইন নাবিল/কেএইচকে/জেআইএম