প্রশ্ন: নখ কাটার পর অজু না করে নামাজ পড়া যাবে?
Advertisement
উত্তর: অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভাঙে না। তাই অজু অবস্থায় নখ কাটার পর নামাজের জন্য নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই, অজু ভেঙে যাওয়ার কোনো কারণ না ঘটলে অজু না করে নামাজ পড়া যাবে।
হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে কেউ অজু করার পর চুল বা নখ কাটলে তার অজুর ক্ষতি হয় না, নতুন করে অজু করতে হবে কি না। তিনি বলেছিলেন, এসব কারণে অজুর কোনো ক্ষতি হয় না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৭৬)
আরও পড়ুন ধূমপানের পর নামাজ আদায় করলে কি তা কবুল হবে? যেসব কারণে অজু ভেঙে যায় ১. প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব, পায়খানা, বাতাস, ক্রিমি ইত্যাদিসহ যে কোনো কিছু বের হলে অজু ভেঙে যায়। ২. শরীরে যে কোনো জায়গা থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে অজু ভেঙে যায়। ৩. খাবার, পানি, রক্ত বা পিতের পানি মুখ ভরে বমি হলে অজু ভেঙে যাবে। অল্প অল্প করে কয়েক বার যদি বমি হয় এবং সবগুলোর মিলিত পরিমাণ যদি মুখ ভরে কৃত বমির সমান হয়, তাহলেও অজু ভেঙে যায়। ৪. দাঁত বা মাড়ি থেকে অল্প রক্ত বের হলে অজু ভাঙবে না। কিন্তু যদি বেশি রক্ত বের হয়, থুথু ফেললে যদি দেখা যায় থুথুর চেয়ে রক্তের পরিমাণ বেশি, তাহলে অজু ভেঙে যায়। ৫. যৌনাঙ্গ থেকে মযী (অর্থাৎ যৌন উত্তেজনার সময় বীর্য বের হওয়ার আগে সাধারণত যা নির্গত হয়) বের হলে অজু ভেঙে যায়। ৬. নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে ইস্তেহাযার রক্ত বের হলে অজু ভেঙে যায়। (হায়েয নেফাস ছাড়া কোনো অসুস্থতার কারণে নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে রক্ত বের হলে তাকে ইস্তেহাযা বলা হয়।) ৭. নারীদের স্তন থেকে দুধ ছাড়া অন্য কিছু যেমন রক্ত, পূজ বা শরীরের রস বের হলে অজু ভেঙে যায়। ৮. নারীরা নিজেদের যৌনাঙ্গে আঙুল প্রবেশ করালে অজু ভেঙে যায়। ৯. পেছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হতে পারে এমনভাবে ঘুমালে, কিছুক্ষণ বেহুশ থাকলে বা উন্মাদ থাকলে অজু ভেঙে যায়। ১০. নামাজের মধ্যে অট্টহাসি হাসলে অজু ভেঙে যায়। আরও পড়ুন কৃত্রিম নখ লাগানো অবস্থায় অজু শুদ্ধ হবে?ওএফএফ
Advertisement