রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
Advertisement
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি নজরে আনার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এদিকে, সন্ধ্যায় গ্রেফতারের পর ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলামও জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধেরর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
Advertisement
আসামিদের মধ্যে পলাতক ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পলাতকদের মধ্যে ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদেশের পর ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল ৪১ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হবে।
ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন সমাবেশ ঘিরে দিনভর মতিঝিল-পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলানো হয়। এরপর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে হেফাজত নেতাকর্মীদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।
Advertisement
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এর ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।
এরই মধ্যে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শাপলা চত্বরের সেই ঘটনায় ৬১ জন নিহতের তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল, যার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তে আসামিদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, সরাসরি অংশগ্রহণ এবং কিছু ক্ষেত্রে এক্সট্রা জুডিসিয়াল কনফেশন পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতি: লতিফ সিদ্দিকীএ মামলার আসামিদের মধ্যে আগে থেকে ১০ জন কারাগারে। তারা হলেন ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, শাহরিয়ার কবির, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, আবদুল জলিল মণ্ডল, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির তৎকালীন এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
এফএইচ/এমকেআর