বোঝাই যাচ্ছিল ওয়ানডে অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আসছে। এসেছেও। মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হয়েছেন লিটন দাস। যেহেতু তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেরও অধিনায়ক, তাই ওয়ানডে অধিনায়ক হওয়ার পর তাকে সাদা বলের অধিনায়ক বলাই যুক্তিযুক্ত।
Advertisement
বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালও তাই বলছেন। আজ ২৯ জুলাই রাতে পরিচালক পর্ষদের সভা শেষে বিসিবি সভাপতি জানালেন, আমরা তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়কের চেয়ে লাল ও সাদা বলে দু’জন অধিনায়ক রাখতে চাই। অনেকদিক থেকেই সেটা যুক্তিযুক্ত।
বিসিবি প্রধানের কথায় যুক্তি আছে। সাদা ও লাল বলে দু’জন অধিনায়ক থাকার ইতিবাচক দিক বেশি। তাতে করে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ককে আলাদাভাবে দল পরিচালনা করতে হবে না। একজন লাল বলে আর অন্যজন সাদা বলে অধিনায়কত্ব করতে পারবেন। তাতে করে মনোযোগ ও মনঃসংযোগ দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে।
এর বাইরে বিসিবি সভাপতি আরও একটি কথা বলেছেন, তা হলো, ‘মেহেদী হাসান মিরাজ টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও একজন গুরুত্বপূর্ণ পারফরমার। তার পারফরম্যান্সটাও খুব দরকারি। মিরাজ ভালো খেললে দল উপকৃত হয়। তাই বিসিবি চাচ্ছে অধিনায়কত্বের চাপমুক্ত মিরাজের সেরা পারফরম্যান্স। মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।’
Advertisement
খুব ভালো কথা। দলে মিরাজ সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তার ব্যাটিং ও বোলিং- দুটোই প্রয়োজন টিম বাংলাদেশের। মিরাজের অফস্পিন বোলিং টিম বাংলাদেশের বড় অস্ত্র। পাশাপাশি তার ব্যাটিংটাও চায় দল।
কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে অলরাউন্ডার মিরাজের দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। দল পরপর চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও তার কোনোটিতেই পারফরমার মিরাজের তেমন অবদান নেই। সেদিক থেকে মিরাজকে অধিনায়কত্বের চাপমুক্ত করা সমর্থনযোগ্য।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেটা হলো, মিরাজের বদলে যাকে অধিনায়ক করা হলো, সেই লিটন দাসও কিন্তু ব্যাটার হিসেবে খুব যে ভালো সময় কাটাচ্ছেন, তা নয়। এই ব্যাটারের দিনকালও কিন্তু খুব ভালো কাটছে না। যদিও কিছুদিন ধরে রানে ফেরার আভাস দিচ্ছেন। তবে তার আগে প্রায় দেড় বছর খুব খারাপ সময় কেটেছে ব্যাটার লিটন দাসের। সেটা খুব আগের কথা নয়।
একটি ছোট পরিসংখ্যান বলে দেবে, মাঝখানে লিটন দাসের কী খারাপ অবস্থা ছিল! ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর ওয়ানডে বিশ্বকাপে পুনেতে ভারতের সঙ্গে ৮২ বলে ৬৬ রানের এক ইনিংস খেলার পর টানা ১৯ ম্যাচে (২২, ৩, ৪৫, ২৩, ৩৬, ২২, ৬, ১, ০, ০, ২, ৪, ০, ০, ৩, ৪১, ৪১, ৪৬, ৭) আর ফিফটির নাগাল পাননি লিটন।
Advertisement
অবশেষে ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটির (৯১ বলে ৭৬) দেখা পান নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক। অবশ্য তার আগে ২০২৬ সালের মার্চে ওয়ানডে খেলতে নেমেই রানে ফিরেছিলেন লিটন। পাকিস্তানের সঙ্গে এ বছরের ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুরে পরপর দুই ম্যাচে ৪১ রানের দুটি আত্মবিশ্বাসী ইনিংস খেলার পর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৬৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস।
তারপর থেকে মোটামুটি আস্থা ফিরে পেয়েছেন এই মেধাবী উইলোবাজ। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শেষ পাঁচ ম্যাচে (৭, ৭৬, ৭, ২১, ৫৮*) একটি ফিফটি তারই সাক্ষ্য দিচ্ছে।
ওপরের পরিসংখ্যান পরিষ্কার বলে দিচ্ছে, ব্যাটার লিটন গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেননি। রানও করেননি। মাঝে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২১ মাস রানখরায় কেটেছে। সবে এ বছরই আবার রানে ফিরেছেন।
এখন টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি ওয়ানডে অধিনায়কত্বের চাপে যদি আবার ওয়ানডেতে রানখরা নেমে আসে লিটনের? তখন কী হবে?
আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বোঝাই যাচ্ছে, মিরাজের বদলে লিটন দাসের অধিনায়কত্বেই ওই বিশ্ব আসরে অংশ নেবে বাংলাদেশ। খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটা ব্যাটার লিটন দাসের জন্য এক বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি যদি সেই কথা মাথায় রেখে খেলতে শুরু করেন, সেটা তার জন্য এক বড় মানসিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তখন অধিনায়ক লিটনের ব্যাটে আবার রানখরা নেমেও আসতে পারে।
তাই সবে রানে ফেরা লিটন দাসের জন্য ওয়ানডে অধিনায়ক হওয়াটা একটি বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দিতেও পারে। যদি অধিনায়কত্বের চাপে লিটন দাস আবার ব্যাটিং ফর্ম হারিয়ে ফেলেন, তখন কী হবে?
এআরবি/আইএইচএস