তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন নগরী ট্রালেইসে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় প্রায় ২ হাজার বছর পুরোনো একটি হলঘরের সন্ধান মিলেছে। এর সঙ্গে হলঘরটির মেঝেতে রোমান যুগের অত্যন্ত সংরক্ষিত একটি মোজাইক রয়েছে বলে জানা গেছে।
Advertisement
এই মোজাইকে সমুদ্রের দেবতা পোসেইডনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক সামুদ্রিক প্রাণী হিপোক্যাম্পাসের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আইদিন প্রদেশের এফেলার জেলার শহরকেন্দ্র থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ট্রালেইসের প্রাচীন বাথ-জিমনেসিয়াম কমপ্লেক্সে চলমান খননকাজে এই হলঘরের সন্ধান মিলেছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, খননকার্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইদিন আদনান মেন্দেরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুরাত চেকিলমেজ। তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হেরিটেজ ফর দ্য ফিউচার’ প্রকল্পের আওতায় এই খনন পরিচালিত হচ্ছে।
Advertisement
আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে চেকিলমেজ জানান, এর আগে দলটি রোমান যুগের একটি অলিম্পিক-ধাঁচের সুইমিং পুলের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছিল। এরপর খনন চালিয়ে বাথ-জিমনেসিয়াম কমপ্লেক্সে তৎকালীন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও নানা নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে। রোমান যুগের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিকরা বাইজেন্টাইন আমলের বিভিন্ন নিদর্শনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শিক্ষা ও বিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল ট্রালেইসচেকিলমেজ বলেন, এই কমপ্লেক্সটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র ছিলো যেখানে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়া হতো।
তার ভাষায়, আমরা মনে করি এটি ছিল একটি বিজ্ঞানকেন্দ্র। এখানে শারীরিক শিক্ষারও বিশেষ গুরুত্ব ছিল। এই জিমনেসিয়াম থেকেই চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বহু পণ্ডিত তৈরি হয়েছেন। প্রাচীনকালে ট্রালেইস লেখক ও বিজ্ঞানী তৈরির জন্য পরিচিত ছিল। আমাদের খননকাজ সেই ঐতিহ্যকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে।
সুসংরক্ষিত মোজাইকএ বছরের খননকাজে বাথ-জিমনেসিয়াম কমপ্লেক্সের উত্তরাংশে মোজাইক-বিছানো একটি হলঘর আবিষ্কৃত হয়েছে।
Advertisement
চেকিলমেজ জানান, প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন সেখানে শুধু বাইজেন্টাইন যুগের একটি কর্মশালা রয়েছে। কিন্তু খনন এগোতে থাকলে কর্মশালার নিচে সুসংরক্ষিত মোজাইক মেঝে উন্মোচিত হয়।
তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত ছিল। ট্রালেইসের বাথ-জিমনেসিয়াম কমপ্লেক্সে এত ভালোভাবে সংরক্ষিত মোজাইক পাওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি সে সময়কার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পৌরাণিক বিশ্বাস সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো এই মোজাইকের বড় একটি অংশ অক্ষত রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেএম