ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে চালানো এই হামলার ফলে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ এতে জড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
Advertisement
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আগের দিন ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার সময় ইরানের কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
Advertisement
এর আগে বুধবার মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। অন্যদিকে, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
তবে মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কথা নিশ্চিত করলেও ড্রোন হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেনি। হামলার জন্য কে দায়ী, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও মিসরে সাম্প্রতিক এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এর আগে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবারই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এবার আমাদের পালা। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিলেও কূটনৈতিকভাবে শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
Advertisement
এদিকে ইরান নিশ্চিত করেছে, তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, অভিযানটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলবে। তবে জুনে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। ইরানের দাবি, বর্তমানে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম