প্রশ্ন: কোনো বিয়েতে যিনি কাজি বা যিনি বিয়ে পড়াবেন, তিনি কি বিয়ের সাক্ষী হতে পারবেন?
Advertisement
উত্তর: ইসলামে বিয়ের আকদ পাত্র-পাত্রী ছাড়া কমপক্ষে দুজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে হওয়া আবশ্যক। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না। (সহিহ ইবনে হিব্বান)
যিনি বিয়ে পড়ান, তিনিও ওই বিয়ের সাক্ষী হতে পারেন। তাই বিয়ের আকদের সময় যদি কাজি ও পাত্র-পাত্রী ছাড়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী অথবা দুজন নারী সাক্ষী উপস্থিত থাকেন, তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।
বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুজন সাক্ষী নির্দিষ্ট করা জরুরি নয়। বিয়ে যদি অনেকের উপস্থিতিতে হয়, দুজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে সাক্ষী বানানো না হয়, তাহলেও বিয়ে হয়ে যাবে।
Advertisement
মসজিদে বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ হলে সেখানে পাত্র-পাত্রী বা তাদের প্রতিনিধি ছাড়া সাক্ষী হওয়ার উপযুক্ত যারা উপস্থিত থাকবে, পাত্রীপক্ষ ও পাত্রপক্ষের ইজাব ও কবুল শুনবে, সবাই বিয়ের সাক্ষী গণ্য হবে।
বিয়ের আকদের অপরিহার্য দুই অংশ হলো ইজাব বা বিয়ের প্রস্তাব এবং কবুল বা ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এক পক্ষ ইজাব করলে বা প্রস্তাব দিলে এবং আরেক পক্ষ গ্রহণ করলে বা কবুল করলে বিয়ে হয়ে যায়। সাধারণত বিয়ের ইজাব বা প্রস্তাব করা হয় কনেপক্ষের তরফ থেকে আর বর প্রস্তাব কবুল করে। অভিভাবক যদি কনের সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে বা যিনি বিয়ে পড়াবেন তার মাধ্যমে প্রস্তাব দেয় এবং বর ‘কবুল করলাম’ বলে, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে।
বিয়ের আকদের সময় কনের সেখানে উপস্থিত থাকা জরুরি নয়। তবে বিয়ের ব্যাপারে প্রাপ্তবয়স্ক কনের সম্মতি বা অনুমতি নেওয়া জরুরি। কনের সম্মতি ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার স্পষ্ট সম্মতি বা নির্দেশনা ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কীভাবে অনুমতি নেবো? রাসুল (সা.) বললেন, তার চুপ থাকাটাই অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
ওএফএফ
Advertisement