ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি তৃতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী রোববার (৩ আগস্ট) নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম, মোছা. রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
আরও পড়ুন রায় কার্যকরের অপেক্ষায় নুসরাতের পরিবারএ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জাগো নিউজকে বলেন, পেপারবুক থেকে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে পেপারবুক থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন চলছে। এ মামলায় ৮৭ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন ও পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। রোববার আরও শুনানি হবে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানান, গত মঙ্গলবার পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) থেকে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপনার মাধ্যমে শুনানি শুরু হয়। বর্তমানে পেপারবুকে থাকা সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
Advertisement
তিনি বলেন, এ মামলায় মোট ৮৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন ও পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। আগামী রোববার-এ মামলার শুনানি আবারও অনুষ্ঠিত হবে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এ মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর অগ্রাধিকার বেঞ্চে তৃতীয় দিনের মতো শুনানি হলো।
Advertisement
এফএইচ/এমএএইচ/